রোহিঙ্গা সংকট পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে: সেনাপ্রধান
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা…
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণে রস সাগরের রস দ্বীপে অবস্থিত পৃথিবীর দক্ষিণতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এরেবাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম বিশুদ্ধ স্বর্ণের অতি সূক্ষ্ম কণা নির্গত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। উত্তপ্ত লাভা, ছাই ও গ্যাসের পাশাপাশি আগ্নেয়গিরি থেকে স্বর্ণ বের হওয়ার এই বিরল ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকদের বিস্মিত করে আসছে।
ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ মেরুর প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস বরফে আচ্ছাদিত হলেও এর ভেতরে রয়েছে একটি স্থায়ী লাভা হ্রদ। বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে নির্গত গ্যাসের সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম স্ফটিকাকার মৌলিক স্বর্ণের কণা বেরিয়ে আসছে। এই স্বর্ণ এতটাই সূক্ষ্ম যে বাতাসে ভেসে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অ্যান্টার্কটিকার বরফের ওপর জমা হয়।
মাউন্ট এরেবাস নিয়ে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটারস-এ। সেই গবেষণাতেই প্রথম উল্লেখ করা হয় যে আগ্নেয়গিরিটি প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ নির্গত করে। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা চললেও এর প্রকৃত প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবীর অন্যান্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকেও স্বর্ণের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হাওয়াইয়ের কিলাউয়েয়া, ইতালির এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন এবং মেক্সিকোর এল শিশন আগ্নেয়গিরির নির্গত পদার্থেও স্বর্ণের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। তবে মাউন্ট এরেবাসের বিশেষত্ব হলো, এখান থেকে স্ফটিকাকার বিশুদ্ধ মৌলিক স্বর্ণের কণা বের হওয়ার ঘটনা বিশ্বের অন্য কোনো আগ্নেয়গিরিতে একইভাবে দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড টেকনোলজি-এর ভূ-রসায়নবিদ কিম্বারলি মিকার এবং তাঁর গবেষক দল আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের আশপাশের বরফ, লাভা থেকে নির্গত গ্যাস এবং আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের অ্যান্টার্কটিকার ট্রপোস্ফিয়ার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। তিনটি ক্ষেত্রেই তারা স্বর্ণের অতি ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি শনাক্ত করেন।
গবেষকদের একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ম্যাগমা থেকে নির্গত ক্লোরিনসমৃদ্ধ গ্যাসের সঙ্গে স্বর্ণ উপরে উঠে আসে। পরে গ্যাস ঠান্ডা হয়ে গেলে স্বর্ণের কণাগুলো আলাদা হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বরফের ওপর জমা হয়। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে এখনো বিজ্ঞানীদের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি।
একই প্রতিষ্ঠানের আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কাইল, যিনি ১৯৯১ সালের গবেষণা দলের সদস্য ছিলেন, ভিন্ন একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, লাভা হ্রদের উপরের স্তরে ধীরে ধীরে স্বর্ণ জমা হয় এবং পরে আগ্নেয়গিরির গ্যাসের সঙ্গে তা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই তত্ত্বও এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মাউন্ট এরেবাসের এই বিস্ময়কর স্বর্ণ নির্গমনের রহস্য বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কীভাবে পৃথিবীর গভীরের ম্যাগমা থেকে স্বর্ণ অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এসে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজতে এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au