দীর্ঘ ১৯ বছর পর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের কারণে একজন নির্বাসিত লেখককে কেন এত বছর নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির শহর থেকে দূরে থাকতে হলো? একই সঙ্গে তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশে নিরাপদে ফিরে আসার অধিকার নিয়েও জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ আগষ্ট: পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ট রাজ্য হবার পরও ১৯ বছর কোলকাতায় আসতে পারেননি তসলিমা নাসরিন। ইন্টারেস্টিং হচ্ছে নিপীড়ন নির্যাতিত অসহায় সংখ্যালঘুদের সংগঠন All India Minority Forum (AIMF) নেতৃত্বে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন ও নিপীড়িত নির্যাতিত সংখ্যালঘু কংগ্রেস নেতা ইদ্রিস আলীর হুংকারে পৃথিবীর নিপীড়ন নির্যাতিত অসহায় সংখ্যালঘুদের দল কমিউনিস্ট পার্টির বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে নেন।
যে দেশে গোলাম আযমের মত রাজাকার সর্দার, যুদ্ধাপরাধীকে আদালত নাগরিত্ব দিয়ে নিরাপদ বসবাস করতে দেয় সেখানে একজন লেখক কেন বাংলাদেশে আসতে পারবে না? লেখক বাদ দিলেও তসলিমা তো বাংলাদেশের মেয়ে। কেন তিনি আসতে পারবেন না তার জবাব বাংলাদেশের সংসদ কি কোনদিন দিবে?
৩০ পার্সেন্ট সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভোট হারানোর ভয়ে শুধু নয়, তসলিমা এলে অঘোষিত সরকারী দল হিসেবে এই ৩০ ভাগ যে কোন সময় চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফেলতে পারে এই ভয়েতে বাম জমানা ও মমতা ব্যানার্জি এই লেখককে কার্যত নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। তসলিমা হায়দ্রাবাদেও নিরাপদ ছিলেন না এবং সেখানে তার বই প্রকাশনী অনুষ্ঠানে আসাদউদ্দীন ওয়াসিফের দলবল হামলা করেছিল।
তাকে সেদিন মারতেই গিয়েছিল ‘ভারতের নির্যাতিত নিপীড়িতরা’ যাদেরকে নাকি গরুর মাংস খেলেই পিটিয়ে মেরে ফেলে, জোর করে ধরে জয়শ্রী রাম বলায়, হিযাব দেখলে ধরে টান মারে! হায় সেলুকাস কী বিচিত্র এই নিপীড়িত সংখ্যালঘু! তো ভারত বাম বা সেক্যুলারদের হাতে কিভাবে নিরাপদ? শাহ বানো মামলায় যে ঐতিহাসিক রায় আদালত দিয়েছিল মুসলিম নারীদের পক্ষে সেই রায়কে চাপা দিতে রাজিব গান্ধী নতুন আইন বানিয়ে মুসলিম পুরুষদের পক্ষে থাকা শরীয়া আইনকে জীবন্ত করে রেখেছিল। কাদের ভয়ে? তবু তারা সেক্যুলার! বাকী সবাই সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী!
তসলিমা নারসিনের পশ্চিমবঙ্গে আগমন নিঃসন্দেহে লেখকের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের বিজয়। প্রশংসা প্রাপ্য শুভেন্দু অধিকারী ও তার রাজ্য বিজেপি দল। একই সঙ্গে বাম ও মমতা ব্যানার্জিকে জবাব দিতে হবে কেন তারা একজন লেখক যিনি নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারতে আশ্রিত তাকে কোলকাতায় ব্যান করে রাখা হয়েছিল? বাংলাদেশের সরকার কি একই সঙ্গে জবাব দিবে কেন বাংলাদেশের একজন লেখক বাংলাদেশে আসতে পারবেন না?
যে দেশে গোলাম আযমের মত রাজাকার সর্দার, যুদ্ধাপরাধীকে আদালত নাগরিত্ব দিয়ে নিরাপদ বসবাস করতে দেয় সেখানে একজন লেখক কেন বাংলাদেশে আসতে পারবে না? লেখক বাদ দিলেও তসলিমা তো বাংলাদেশের মেয়ে। কেন তিনি আসতে পারবেন না তার জবাব বাংলাদেশের সংসদ কি কোনদিন দিবে? বাংলাদেশের সংবিধান আইন আদালত সরকার কি লজ্জা পাবে না শুভেন্দু অধিকারীর কাছে?
-সুষুপ্ত পাঠক