হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন…
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতাকে ঘিরে সৃষ্ট নজিরবিহীন অভিবাসন সংকট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দেখা দেওয়া মতপার্থক্য নিরসনে আগামী মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের অবস্থান নিয়ে ২২টি সদস্য দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে স্পেন তাদের সমালোচনাকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
মরক্কো হয়ে সমুদ্রপথে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর সিউতায় প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ইতালি স্পেনের সঙ্গে মুক্ত চলাচলের শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইতালির এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনরায় চালুর দাবি তুলেছে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়ামসহ ২২টি সদস্য দেশের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, ইতালির শেনজেন চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন দেশের সমালোচনার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ইউরোপীয় কমিশনের কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে তিনি মিত্র দেশগুলোর অবস্থানকে “স্বার্থপর, বিভাজন সৃষ্টিকারী, অবৈধ এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন” বলে মন্তব্য করেন।
পেদ্রো সানচেজ বলেন, সিউতা মূল শেনজেন এলাকার অংশ নয় এবং মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্পেন সীমান্তে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, মূল ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশ কার্যকরভাবে ঠেকানো হয়েছে।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, ৩০ জুলাই সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা অধিকাংশ অভিবাসীকেই ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে সাঁতরে সীমান্ত পার হওয়ার সময় প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৭ জনে পৌঁছেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা বলেছেন, সিউতার ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। একই সঙ্গে জলপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভাসমান প্রতিবন্ধক নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।
এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ মরক্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারী অভিবাসীদের দ্রুত ফিরিয়ে নিতে হবে। অপরদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে স্থলপথে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় সিউতা দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক এই সংকট শুধু মানবিক চ্যালেঞ্জই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিন্ন অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au