তিন মাসেও কাটেনি জ্বালানি সংকট, সমাধানে ধীরগতি
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: সরকারের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে তিন মাস পার হয়েছে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায়। সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল…
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের রেকর্ড দরপতন ঠেকাতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০১১ সালের পর এই প্রথম এবং ১৯৮৬ সালের পর সবচেয়ে বড় ধরনের এই সমন্বিত পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সোমবার (৩ আগস্ট) দিতে পারেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা। জাপান সরকারের দুই কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে দুই দেশ একাধিক দফায় বাজার থেকে ইয়েন কেনে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়েনের দরপতন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার মান ১৯৮৬ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় টোকিও ও ওয়াশিংটন এই সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়।
একটি বাজার সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে লেনদেন চলাকালে জাপান সরকার ডলারের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ ইয়েন কিনেছে। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য অনুযায়ী, এই হস্তক্ষেপে প্রায় ৫৮ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
শুক্রবার ব্যাংক অব জাপান তাদের মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতির কারণে দুই দেশের সুদের হারের ব্যবধান বেড়ে যাওয়ায় ইয়েনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিন ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা সংবাদ সম্মেলন শেষে ইয়েনের মান হঠাৎ বেড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ওই সময়ও জাপান সরকার বাজারে ইয়েন কিনে হস্তক্ষেপ করেছে।
জাপানের শীর্ষ মুদ্রা কূটনীতিক আৎসুশি মিমুরা বলেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক অব জাপান আর্থিক নীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কয়েকটি বড় ব্যাংককে সম্ভাব্য বাজার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে প্রস্তুত থাকতে বলেছে বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট ইয়েনকে “অত্যন্ত অবমূল্যায়িত” বলে মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া তার হাতে থাকা একটি নোটপ্যাডে “করণীয়” শিরোনামের নিচে “৫ থেকে ১০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন কিনুন” লেখা দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইংরেজিতে এক বিরল বার্তায় জানায়, বাজারে ডলারের তারল্য নিশ্চিত করতে তাদের হাতে একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের রিপার্চেজ ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করেও ডলারের তারল্য বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে জাপানকে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করতে হবে না। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারে অস্থিরতা কমবে এবং সরকারি বন্ডের ইল্ড হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
এদিকে জাপানের অর্থমন্ত্রী মিনোরু কিউচি বলেছেন, সরকারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকার বাজারের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখবে। তার ভাষায়, দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
সুত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au