বাঁচতে চান ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত নগেন, পাশে দাঁড়ানোর আকুতি পরিবারের। ছবিঃ সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের উলিপুরের নগেন চন্দ্রের জীবন এখন হাসপাতালের বিছানায় থমকে আছে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই মানুষটির চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতোমধ্যে সঞ্চয়ের সব অর্থ শেষ হয়ে গেছে। ধারদেনা করেও চিকিৎসার খরচ চালিয়ে যাচ্ছে পরিবারটি। এখন প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় নগেনের উন্নত চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নগেন চন্দ্র কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার পূর্ব নাওডাঙ্গা গ্রামের পরবা চন্দ্রের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. রাজকুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নগেন দীর্ঘদিন ঢাকার নারায়ণগঞ্জে একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। তার উপার্জনেই চলত পরিবারের দৈনন্দিন খরচ। সংসারের পাশাপাশি দুই মেয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনও তিনি নিজের আয়ের মাধ্যমে সামলাতেন। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেই মানুষটিই এখন অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
নগেনের দুই মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে স্নাতকে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নগেনের চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি ছোট মেয়ের পড়াশোনা ও পরিবারের নিত্যদিনের ব্যয় চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বজনরা জানান, পরিবারের সম্পত্তি বলতে বসতবাড়ির ভিটেটুকুই রয়েছে। নগেনের চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর থেকে নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে চিকিৎসার খরচ মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। এরপর স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে ধারদেনা করে চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখন সেই পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
একদিকে হাসপাতালের ব্যয়, অন্যদিকে সংসারের খরচ। এর সঙ্গে রয়েছে মেয়ের পড়াশোনার ব্যয়। সবকিছু মিলিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অসুস্থ নগেনের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থ তাদের হাতে নেই।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, নগেনের শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য চিকিৎসক আরও উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু এই বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো চিকিৎসা করাতে না পারলে নগেনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
যে মানুষটি এতদিন নিজের পরিশ্রমে পরিবারের সবার মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, আজ সেই নগেনই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াই করছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারায় প্রতিটি মুহূর্ত এখন পরিবারের কাছে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায় কাটছে।
নগেনের স্বজনদের ভাষায়, তাদের সামনে এখন একদিকে প্রিয় মানুষটির জীবন বাঁচানোর আকুতি, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল খরচের বাস্তবতা। নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেও তারা আর পারছেন না। তাই শেষ ভরসা হিসেবে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, মানুষের সামান্য সামান্য সহযোগিতাও একসময় বড় সহায়তায় পরিণত হতে পারে। সেই সহায়তায় হয়তো নগেনের চিকিৎসা আবার শুরু করা সম্ভব হবে, ফিরে আসতে পারে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন।
নগেনের পরিবার বলছে, এটি শুধু অর্থ সহায়তার আবেদন নয়, একজন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় তাদের আকুতি। সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ পাশে দাঁড়ালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের পথ কিছুটা হলেও সহজ হবে।
নগেন চন্দ্রের চিকিৎসায় সহযোগিতা পাঠাতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিচের নম্বরে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিকাশ/নগদ: ০১৯২০৯৩৮২০৬