অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধীদের
অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতায় গেলে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রধান বিরোধী জোট লিবারেল-ন্যাশনাল জোট। জোটটির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে…
স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় আবারও ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সোমবার সকালে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর পর তার মোট সম্পদের মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে জুনে প্রথমবার এই মাইলফলক অর্জনের পর আবারও ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পেলেন তিনি।
ফোর্বসের হিসাবে, সোমবার মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। শেয়ারবাজার খোলা থাকা সর্বশেষ দিন শুক্রবারের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে ইলন মাস্কের।
সম্পদের দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর তুলনায় মাস্কের সম্পদ প্রায় তিন গুণ।
জুনে নাসডাকে স্পেসএক্সের শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হন মাস্ক। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তিনি এই মর্যাদা হারান। সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য আবার বাড়তে থাকায় তার সম্পদও দ্রুত ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি চলে আসে।
বিশেষ করে টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহ বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। গত শুক্রবার শুধু এক দিনেই তার সম্পদ বেড়েছিল ৬১ বিলিয়ন ডলার।
সোমবারও টেসলার শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ১৬৭ ডলার। এর পরই মাস্ক আবার ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের সীমা অতিক্রম করেন।
স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য বাড়ার পেছনে মর্গান স্ট্যানলির বিশ্লেষকদের একটি মূল্যায়নও ভূমিকা রেখেছে। তাদের মতে, স্পেসএক্সের শেয়ারের প্রকৃত মূল্য বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় কম নির্ধারিত হয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তাহে স্পেসএক্সের স্টারশিপ প্রথমবারের মতো সফলভাবে কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করাও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও নতুন পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মাস্ক। রোববার তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে অভিহিত করার পক্ষে থাকায় স্পেসএক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেসএক্সএসআই’ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্য নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাস্ক। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি নতুন চুক্তি বা অ্যাকর্ড প্রকাশ করেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সুরক্ষা কাঠামো বা বিস্তারিত বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। ট্রাম্প নিজেও এটিকে নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে মাস্কের সম্পদ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়ানোর খবরের মধ্যেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা চলছে। কয়েক দিন আগে তার সাবেক প্রেমিকা শিভন জিলিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দেন যে, তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। তিনি লেখেন, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই এক সপ্তাহের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন হলেও কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ইলন মাস্ক ও শিভন জিলিসের চার সন্তান রয়েছে। মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের নির্বাহী জিলিস মে মাসে আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন, রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ানোর আগে তারা বন্ধু ও সহকর্মী ছিলেন। তাদের প্রথম দুই সন্তানের ক্ষেত্রে আইভিএফ পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য মাস্ক শুরুতে শুক্রাণু দান করেছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au