অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী নির্বাচনের আগে আবারও আয়কর কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলোর জন্য নতুন করে আর্থিক স্বস্তির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে চলতি বছরের করছাড়ের প্রভাব তুলে ধরতে গিয়ে যে হিসাব সামনে এসেছে, তাতে সাধারণ করদাতাদের সাশ্রয়ের পরিমাণ খুব বেশি নয়।
নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ অস্ট্রেলীয় করদাতা মোট ৭০ কোটি ডলারের আয়কর ছাড় পেয়েছেন। তবে এই সময়ে গড়ে একজন করদাতার সাশ্রয় হয়েছে মাত্র ৫৮ ডলার। অর্থাৎ দৈনিক হিসাবে কর কমার পরিমাণ প্রায় ৬৪ সেন্ট।
চালমার্স বলেন, সরকারের কর সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো কর্মজীবীদের করের বোঝা কমানো, আরও বেশি মানুষকে প্রথম বাড়ি কেনার সুযোগ করে দেওয়া এবং তরুণদের আর্থিকভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা।
তিনি বলেন, “মানুষ এখন আর্থিক চাপে রয়েছে। এ কারণেই আমরা কর কমানোসহ জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ধারাবাহিক সহায়তা দিয়ে আসছি।”
সরকারের আইন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে আয়করের সর্বনিম্ন হার ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি করদাতা উপকৃত হওয়ার কথা।
এর পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ করবর্ষে সব করদাতার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত করছাড়ের সুবিধা রয়েছে। ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া আগের করছাড়ের উদ্যোগের সঙ্গে নতুন ব্যবস্থাগুলো যুক্ত হয়েছে।
তবে সামনে আরও করছাড় আসবে কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে চালমার্স বলেন, বাজেটের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আগামী দিনে কর কমানোর জন্য সরকারের হাতে আরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কর্মজীবীদের পাশে দাঁড়াচ্ছি, আর আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের স্বার্থের বিরোধিতা করছে।”
চালমার্সের দাবি, লিবারেল ও ন্যাশনাল পার্টি এই করছাড়ের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। তাদের অবস্থান কার্যকর হলে কর্মীদের আরও বেশি কর দিতে হতো এবং তাদের হাতে আয়ও কম থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অস্ট্রেলীয় কর দপ্তরের (এটিও) ‘সিঙ্গেল টাচ পেরোল’ ব্যবস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের কর্মীদের বেতন ও করসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সর্বশেষ করছাড়ের ফলে এক প্রান্তিকে কর্মজীবীদের গড় কর সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৫৮ ডলার বলে ধারণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ি কেনার জন্য সুপার ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায় বিরোধীরা
এদিকে করছাড়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের হাতে অর্থের জোগান বাড়ানোর আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বিরোধী জোট। লিবারেল পার্টি কর্মীদের অবসরকালীন সঞ্চয় তহবিল বা ‘সুপারঅ্যানুয়েশন’ থেকে আগাম অর্থ তোলার সুযোগ দেওয়ার কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করছে। এর উদ্দেশ্য, আরও বেশি মানুষকে পারিবারিক বাড়ি কেনার সুযোগ করে দেওয়া এবং অবসরের পর ভাড়াবাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কমানো।
প্রস্তাবের আওতায় তিনটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথমত, সুপার তহবিলের অর্থ জামানত হিসেবে ব্যবহার করে বড় অঙ্কের গৃহঋণ নেওয়া। দ্বিতীয়ত, বন্ধকী ঋণের সুদ কমাতে ওই অর্থকে ঋণের বিপরীতে সমন্বয় হিসেবে ব্যবহার করা। তৃতীয়ত, বাড়ি কেনার জন্য সুপার তহবিল থেকে সরাসরি অর্থ তুলে নেওয়া।
লিবারেল পার্টির সিনেটর অ্যান্ড্রু ব্র্যাগ বলেন, কিছু অস্ট্রেলীয়র জন্য ভাড়া বাসায় থাকা একটি গ্রহণযোগ্য পছন্দ। তবে অবসরকালীন জীবনে ভাড়াবাড়িতে বসবাস যেন বাধ্যতামূলক বাস্তবতায় পরিণত না হয়, সেটি তিনি চান।
তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত ভাড়াটিয়াদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন।
সরকারের আয়কর কমানোর পরিকল্পনা এবং বিরোধীদের সুপার তহবিল ব্যবহারের প্রস্তাব, দুই উদ্যোগের লক্ষ্যই মানুষের আর্থিক চাপ কমানো ও বাড়ির মালিকানা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর কথা তুলে ধরা। তবে প্রস্তাবগুলোর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে করছাড়ের প্রকৃত সাশ্রয়, সুপার তহবিলের অর্থ ব্যবহারের শর্ত এবং আবাসনবাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাবের ওপর।
সূত্র : নিউজ.কম.এইউ