ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ ডিসেম্বর- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগরের বাবুবাজারে জাবালে নূর টাওয়ারে লাগা ভয়াবহ আগুন প্রায় ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি। ভবনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য মালামাল থাকায় নির্বাপণ প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার বিকাল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে ব্রিফিং করেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ৫টা ৪৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে মোট ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।
তিনি বলেন, জাবালে নূর টাওয়ার একটি মিক্সড অকুপেন্সি ভবন, যেখানে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহার একসঙ্গে রয়েছে। তবে এটি আসলে একটি ভবন নয়, ইউ-আকৃতির সাতটি ভবনের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমপ্লেক্স, যার বেজমেন্ট একটিই। ভবনের প্রতিটি অংশে গার্মেন্টসের অ্যাকসেসরিজ ও ঝুটে ঠাসা থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জানান, ভবনের প্রায় সব দোকান ও গুদাম ছোট-বড় শাটার ও কলাপসিবল গেট দিয়ে বন্ধ ছিল। এসব শাটার কেটে ভেতরে ঢুকেই আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে। ভেন্টিলেশন অত্যন্ত কম থাকায় ফায়ার ফাইটারদের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় হঠাৎ ব্যাকড্রাফটের ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ফোরণের আতঙ্ক তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও ঝুট পুড়ে প্রচুর কালো ধোঁয়া তৈরি হচ্ছে। একেকটি শাটার খোলার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সাড়ে ১১ ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নির্বাপণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হবে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঝুট ও অন্যান্য দাহ্য মালামাল ধাপে ধাপে ভবন থেকে বের করা হচ্ছে। এসব সরানো গেলেই আগুনের উৎসগুলো একে একে নিভে আসবে। ভবনের বেজমেন্ট থেকে শুরু করে দোতলা এবং কোথাও কোথাও তিনতলা পর্যন্ত কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল এলাকা। তবে এখন নতুন করে বড় কোনো দুর্যোগের আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে রবিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও জানান তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পরিবর্তন করে নতুন রিলিভার টিম নামানো হচ্ছে, যাতে কাজ অব্যাহত রাখা যায়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আগুনের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগুন নির্বাপণই ছিল প্রথম অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে তদন্ত করে আগুনের কারণ নির্ধারণ করা হবে। তিনি জানান, অগ্নি নিরাপত্তার দিক থেকে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে আগেও মালিকপক্ষকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল।
ভবনটি বসবাসের উপযোগী থাকবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আগুন লাগায় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা জরুরি। স্ট্রাকচারাল অডিটের পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ভবনটি ব্যবহারযোগ্য কি না।
ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক বলেন, ভবনে বিপুল পরিমাণ গার্মেন্টস মালামাল, কাপড়, অ্যাকসেসরিজ ও ঝুট থাকায় ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।