ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের পর কে হচ্ছেন ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী?
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে নরেন্দ্র মোদী সরকার যে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে, তা শুক্রবারই স্পষ্ট হয়েছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত খসড়া বিলের…
মেলবোর্ন, ২৫ জুলাই: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন গত চার বছর ধরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে লোহার রড বেরিয়ে আসা এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দাতেই চলছে পাঠদান। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম দুর্ভোগে পড়েছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।
উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের বামনাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি ১৯৯৪ সালে নির্মিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২১৩ জন শিক্ষার্থী, আটজন শিক্ষক এবং একজন নৈশপ্রহরী রয়েছেন। কিন্তু ভবনের অবস্থা এতটাই নাজুক যে প্রায় চার বছর ধরে শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, খোলা বারান্দায় পাঠদান করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া এবং বাইরের শব্দের কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পাঠদানের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষার্থী নিরব মিয়া ও সালমা আক্তার জানায়, বৃষ্টির সময় বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়, আবার রোদের সময় প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
অভিভাবক পুতুল চন্দ্র মোহন্ত বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আরেক অভিভাবক বৃষ্টি রানী অভিযোগ করেন, খোলা জায়গায় ক্লাস করার কারণে তার সন্তান প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে নিয়মিত স্কুলে পাঠানোও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নিপা রাণী সরকার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বাধ্য হয়ে বারান্দায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. ছামছুন্নাহার বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এ বিষয়ে তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুশান্ত কুমার বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোকদার জানান, বিদ্যালয়টির ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর অবগত রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au