সরদার সেলিম রেজা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই:
এ শহর গ্রাম ছিল একদিন,
সময়ের স্রোতে হারালো তার চেনা জমিন।
ইট-পাথরের দেয়াল উঠলো ধীরে ধীরে,
যেখানে একসময় ছিল শাপলা-শামুক নদীর তীরে।
ধানমন্ডি, মিরপুর, গুলশান,বারিধারা,উত্তরা,
সবই তো ছিল একদা সবুজে ভরা।
কালের ফেরে আজ তারা অভিজাত নগরী,
ধনীর প্রাসাদে ঢাকা পড়ে মাটির কুঁড়েঘরই।
এ গ্রাম বয়ে আনে শত বছরের কথা,
রাজা-বণিকের পায়ের ধুলো, পূর্বপুরুষের ব্যথা।
এই মাটির কণায় কণায় মিশে আছে ঘাম,
আমাদের গৌরব, আমাদেরই নাম।
সভ্যতার নামে গ্রাম আজ বিলীন প্রায়,
যান্ত্রিক জীবনে স্মৃতিরা কাঁদে হায়।
আগামী প্রজন্ম জানবে না হয়তো আর,
বাংলাদেশ ছিল একদা গ্রাম-প্রধানের দেশ আমার।
ভোরের বেলা পাখির গানে ভাঙতো ঘুম,
মাঠে যেতো কৃষক লাঙল কাঁধে, বাজতো না আর বুম।
সেই দিনগুলো আজ শুধুই বইয়ের পাতা,
দাদুর গল্পে বেঁচে থাকা পুরনো খাতা।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী বট-তাল-হিজল,
আজও ডাকে, “আয়রে খোকা, বসবি আমার ছায়াতল?”
তারা সাক্ষী ছিল আমাদের ছেলেবেলার,
আজ তারাও নীরব, নেই আর কোলাহল।
লাঙল-জোয়াল, মই আর হুক্কার ধোঁয়া,
সবই আজ জাদুঘরে, নেই আর ছোঁয়া।
হিজল-গাবের বদলে এলো মেহগনি-চাকল,
বিদেশি গাছে ভরেছে মাঠ-ঘাট, বন-জঙ্গল।
পাখিরা উড়ে যায়, খাবার নেই আর,
পরিবেশের ভারসাম্য ভাঙছে চারিধার।
গরমের রাতে ঝিঝির একটানা সুর,
তা-ও আজ বড় বেশি দূর।
জোনাকির আলোও নেভে গেছে রাতে,
আঁধার নেমে আসে শুধু নীরবতায়।
গামছায় বাঁধা ভাতের পুটলি, হাতে জলের ঘটি,
মাঠে যেতো না আর কোনো গৃহিণী।
খেয়াঘাটের বুড়ো মাঝি, ডিঙ্গি নৌকা,
সবই আজ স্মৃতি, আছে শুধু সেতু আর পোল।
নদীর বুকে পাল তোলা নৌকা নেই,
শুধু রয়ে গেছে বুকের মাঝে এক সমুদ্র কান্না।