মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: ভারত মহাসাগরে হৃদয়স্পর্শী এক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। একটি মা বোতলনোজ ডলফিন তার মৃত নবজাতক শাবককে কয়েক দিন ধরে পিঠে বহন করে পানির ওপর ভাসিয়ে রেখেছে। প্রাণিজগতের এই বিরল আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা জিওগ্রাফ মেরিন রিসার্চ ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ডলফিন পর্যবেক্ষণের সময় গবেষকরা এ দৃশ্য ধারণ করেন।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মা বোতলনোজ ডলফিনটির নাম ‘ফ্র্যাগল’। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তার শাবকটির জন্ম হয়েছিল। তবে শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত জটিলতায় শাবকটি মারা যায়। ভিডিওর সঙ্গে প্রকাশিত বার্তায় গবেষকরা জানান, শাবকটি বেঁচে থাকবে বলে তারা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে ফ্র্যাগল টানা চারটি শাবক হারিয়েছে।
সামুদ্রিক জীব বিজ্ঞানীদের মতে, ডলফিন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সামাজিক প্রাণী। শাবক মারা গেলে অনেক মা-ডলফিন কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত মৃত সন্তানকে পিঠে বা মুখে বহন করে। বিজ্ঞানীরা এই আচরণকে প্রাণীদের শোক প্রকাশের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করেন।
গবেষকদের ভাষ্য, একসময় নিজের বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই মা-ডলফিনকে মৃত শাবকটি ছেড়ে খাদ্যের সন্ধানে যেতে হয়। তবে সেই সময় পর্যন্ত সে সন্তানের দেহটি ডুবতে না দিয়ে আগলে রাখার চেষ্টা করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ঘটনাটির সময় আশপাশে থাকা কয়েকটি ডলফিনও ফ্র্যাগলের পাশে সাঁতার কাটছিল। এতে ডলফিনদের পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক আচরণের আরেকটি দিক ফুটে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডলফিন নয়, হাতি, তিমি ও কিছু প্রাইমেট প্রাণীর মধ্যেও মৃত সন্তান বা সঙ্গীর জন্য শোক প্রকাশের আচরণ দেখা যায়। এসব আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, মাতৃত্বের অনুভূতি শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রাণিজগতেও তার গভীর প্রকাশ রয়েছে।