বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের গোয়ায় তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পর প্রকাশ্যে এসেছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। এতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ভারতের গোয়ায় নিজের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) অভিনেতার ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাতে জানানো হয়েছে, হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি ধমনী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদপিণ্ডের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহকারী বাঁ পাশের প্রধান করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। এর ফলে ওই ধমনী দিয়ে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবেদনে এটিকেই অভিনেতার মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর বাবার মরদেহ নিতে গোয়ায় যান। পরে মরদেহ মহারাষ্ট্রের পুনেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর খামারবাড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রজগতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। ব্যতিক্রমী অভিনয়শৈলী, সংলাপ বলার নিজস্ব ভঙ্গি এবং শক্তিশালী চরিত্রায়ণের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন।
শুধু অভিনয় নয়, চলচ্চিত্র পরিচালনা ও লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ কর্মজীবনে চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তাঁকে ভারতের অন্যতম বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী প্রদান করা হয়।
১৯৭৮ সালে পরিচালক মুজাফফর আলির ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক ঘটে নানা পাটেকরের। এরপর বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন।
পরবর্তী সময়ে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায়ও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানা পাটেকরকে সর্বশেষ দেখা যায় ‘সুবেদার’ চলচ্চিত্রে, যা ২০২৬ সালে প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পায়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন নানা পাটেকর। তাঁর অভিনয়, সংলাপ এবং স্বতন্ত্র উপস্থিতি ভারতীয় চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তবে নানা পাটেকরের মৃত্যু ও ময়নাতদন্তের তথ্যগুলো বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। হাসপাতালের মূল ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।