দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, বাড়ল হিন্দু-বৌদ্ধদের উৎসবের অনুদানও
বাংলাদেশে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মহানবমী ও বিজয়া দশমীর নির্ধারিত দুই দিনের ছুটির সঙ্গে ২২…
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে তাঁর সফরসঙ্গী ও নীতি, কৌশল, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে ভিসার অনুরোধ জানানো হলেও মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে একটি ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যদের জন্য ভিসার অনুরোধ জানায়। ওই নোট ভারবালে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেবেন।
নোট ভারবালে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সান ফ্রান্সিসকোতে একটি ‘সরকারি’ কর্মসূচিতেও অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন দূতাবাস ওই ভিসার অনুরোধের বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি।
এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সূচিতে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আনা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সফরের সময় নিউইয়র্কে বিভিন্ন বৈঠক ও পার্শ্বকর্মসূচির ব্যবস্থা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তবে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নির্ধারিত কিছু বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে জটিলতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ভারত সফরের সময় দিল্লির বিমানবন্দরে তাঁকে ইমিগ্রেশন জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর সফর সম্পর্কে আগেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল বলে ঢাকার পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়।
জুনে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাহেদ-উর-রহমানকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও তিনি সফর বাতিল করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন ভারতীয় পক্ষের ব্যাখ্যাকে সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছিল।
বর্তমান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দিল্লির ঘটনার আগে তাঁর কাছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি ছিল। তবে সফরটি ‘দ্বিপক্ষীয়’ নয়, এমন কারণ দেখিয়ে ভিসা বা প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন না পাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরিকল্পনায় শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আনা হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়াকে সফরের মূল কর্মসূচি রাখা হয় এবং এর বাইরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বৈঠকের ব্যবস্থা করে।
তবে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপির সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বৈঠকের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে ২৭ আগস্টের একটি ঘটনারও উল্লেখ রয়েছে। ওই দিন মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরোসের ছেলে আলেকজান্ডার সোরোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিগুলোর একটিতে তাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এবং আরেকটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে জাতিসংঘের কর্মসূচির বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্য কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি নিশ্চিত করতে পারেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। পরে সোরোস পরিবারের সঙ্গে তাঁর ‘ঘনিষ্ঠতা’ দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এই দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। এরপর দুবাই হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় পৌঁছান।
দুবাইয়ে তাঁর দীর্ঘ ট্রানজিটের কারণ সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া টিমের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ঢাকায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তাঁর প্রচলিত সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব কর্মসূচি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর ২৮ সেপ্টেম্বর চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
এর পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাহেদ-উর-রহমানের ভিসা এবং মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ওই বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ আগস্ট ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নোট ভারবালের বিষয়ে মার্কিন দূতাবাস কোনো জবাব দেয়নি। তবে মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
একইভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যদের জন্য ভিসা না দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণও প্রকাশ করা হয়নি।
ফলে ঢাকার ভিসা অনুরোধের পর মার্কিন দূতাবাসের নীরবতার কারণ কী ছিল, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো এটিকে সফরসূচি পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এদিকে জাহেদ-উর-রহমানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সফরের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টিও একই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিসা আবেদন, সফরসূচি পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এসব বিষয়ে কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্যই প্রধান তথ্য হিসেবে থাকছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au