সাজেকে দুই সশস্ত্র গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে শিশু গুলিবিদ্ধ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের মাচালং এলাকার মন্দিরাছড়ায় দুই আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে কস্মিকা ত্রিপুরা নামে আট বছরের এক শিশু। মঙ্গলবার সকালে…
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নরশিয়া গ্রামে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ৩০টি ককটেল একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির টিনের চালা উড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি একরামুল হোসাইন।
বিস্ফোরণের পর আতঙ্ক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরশিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার বাড়ির একটি ঘরে মাটির নিচে ককটেলগুলো মজুদ রাখা ছিল। রাত ৮টার দিকে সেগুলো একযোগে বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে ঘরের টিনের চালা উড়ে যায় এবং বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকে বাড়ির লোকজন সেখানে নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোহাম্মদ ইয়াহিয়া (৪৭) নরশিয়া গ্রামের ইসহাক আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মুসার ভাতিজা বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, ইয়াহিয়া নিজেও জামায়াতের সমর্থক।
মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তসংলগ্ন নতুন সাঁকো এলাকার একটি মাছের ঘেরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়াহিয়ার সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জের ধরে ককটেলগুলো মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন। আবার অন্য একটি সূত্রের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যেও এসব ককটেল মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, রাতে ককটেলগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বোমাগুলো ঘরের মধ্যে একসঙ্গে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণে ঘরের চাল উড়ে গেছে। মাছের ঘের নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। তিনি দুদিন আগেই প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
তদন্তে পুলিশ-বিজিবি
বিজিবি-৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, জহুরপুর সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নরশিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে এলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ককটেলগুলো মজুদ করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au