জামায়াতের উত্থান দেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে: নুরুল হক নূর
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং দেশের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…
মানিকগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক বশিরের দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সদর উপজেলার পশ্চিম গুজুরী গ্রামের একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত বশিরকে প্রথমে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বশিরের বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আকাশ (২১), তুহিন (২২), আরিফ (২২) ও তানজিদ।
ডেকে নেওয়ার পর ইটভাটায় হামলা
বশিরের বাবা মনির হোসেনের ভাষ্য, রোববার রাতে সদর উপজেলার পশ্চিম গুজুরী গ্রামের আকাশ তার ছেলে বশিরকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তারা বেতিলা মেঘবাড়ি রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডা দেন।
এরপর রাতে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি ছেলের আহত হওয়ার খবর পান। পরে বশিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে বশিরকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তবে হামলার প্রকৃত কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। বশিরের পরিবার এটিকে পূর্ববিরোধের জেরে হামলা বললেও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দাবি করেছেন, মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
মনির হোসেন জানান, তার ছেলে আগে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। ২০২১ সাল থেকে পড়াশোনা ছেড়ে তিনি বাড়িতেই থাকছেন।
জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে বশিরের নাম রয়েছে, সেটি তিনি আগে জানতেন না বলেও দাবি করেছেন মনির হোসেন। তার ভাষ্য, হামলার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কোনো সম্পর্ক নেই। আকাশ, আরিফসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার বিরোধের জেরেই তার ছেলের ওপর হামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
ছাত্রলীগের অভিযোগ, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা’ হামলা চালিয়েছে
বশিরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ।
সোমবার সংগঠনটির সভাপতি এম এ সিফাদ কোরাইশী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা বশিরের ওপর হামলা চালিয়ে তার দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দিয়েছে।
সংগঠনটি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
তবে ছাত্রলীগের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ বলেন, বশিরের ওপর হামলার সঙ্গে ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত নন।
তার দাবি, বশিরের বন্ধুরাই তাকে কুপিয়ে আহত করেছেন। মধ্যরাতে বশির কার সঙ্গে ইটভাটায় গিয়েছিলেন, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আব্দুল খালেক শুভ আরও দাবি করেন, মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেও এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই। এ ঘটনায় রাজনৈতিক সংগঠনের নাম জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা বশিরের পরিচিত
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বশিরের ওপর যারা হামলা করেছে, তারা সবাই তার পরিচিত এবং বন্ধু। তারা বশিরের সঙ্গে নিয়মিত চলাফেরা করতেন।
ওসি জানান, এ ঘটনায় বশিরের বাবা মনির হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে গুরুতর আহত বশির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং এতে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au