নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ…
মেলবোর্ন, ৩ আগষ্ট- প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ। আগুনের হলকায় ধ্বংস হয়েছিল ভবন, স্বপ্ন আর শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথচলা। সেই বেদনাদায়ক ঘটনার ১২ দিন পর সীমিত পরিসরে খুলেছে কলেজের দরজা। তবে পাঠদান নয়, আজ শিক্ষার্থীদের ফিরে আসা নিঃশব্দ এক শোকযাত্রার মতো।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকালে কলেজের মূল ফটক দিয়ে শিক্ষার্থীরা একে একে ভেতরে প্রবেশ করেছেন। নেই কোনো কোলাহল, নেই চেনা সেই প্রাণচাঞ্চল্য। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ মাহফিল, শোক ও স্মরণসভা। এতে অংশ নেন কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে বিষাদের ছাপ স্পষ্ট। দশম শ্রেণির সামিরা ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন যেই ভবনের সামনে দিয়ে হেঁটে ক্লাসে যেতাম, আজ সেখানে শুধুই পোড়া গন্ধ আর শূন্যতা। আজ কোনো ক্লাস হয়নি, শুধু এসেছি বন্ধুদের খোঁজ নিতে, কুশলাদি জানতে।”
একাদশ শ্রেণির রবিউল ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাসে পা রাখতেই চোখে পানি এসে গেলো। এই মাঠে একসঙ্গে কত হাসিখুশি সময় কেটেছে। আজ সব স্তব্ধ। আমার সহপাঠীরা আর ফিরে আসবে না—এই ভাবনাতেই বুকটা ভার হয়ে আসে।”
কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল জানান, “শিক্ষার্থীরা যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, এজন্যই সীমিত পরিসরে কলেজ খোলা হয়েছে। আজ কোনো ক্লাস না রেখে শিক্ষার্থীদের শুধু আসা-যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে তারা বন্ধু, শিক্ষক ও পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করে মানসিক প্রশান্তি ফিরে পায়।”
তিনি আরও জানান, কলেজে আজও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমান বাহিনীর সহায়তায় একটি চিকিৎসা ক্যাম্প চালু রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের নেতৃত্বে কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করার সুযোগও পাচ্ছে।
শাহ বুলবুল আরও বলেন, “শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজের পারস্পরিক সহানুভূতি ও মানবিকতা এই সংকটময় সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
প্রসঙ্গত, ২১ জুলাই মাইলস্টোন কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এরপর তিন দফায় কলেজ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ আগস্ট পর্যন্ত কলেজ বন্ধ ছিল। এই সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু ছিল এবং দুর্ঘটনায় আহতদের সহায়তায় গঠন করা হয় একটি কন্ট্রোল রুম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au