‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয়’, মৃত্যুদণ্ডের আগে নজরুলের সেই আক্ষেপ
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ নজরুল ইসলাম মাহিন। কিন্তু পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর করার স্বপ্ন নিয়ে…
যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচি ২০২৭ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় কর্মসূচিটি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে আদালতের এ আদেশ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে নিবন্ধন শুরু হলেও বাংলাদেশিরা এবার আবেদন করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।
গত ১৪ অক্টোবর দেওয়া আদেশে আদালত ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধনের সময়সূচি দ্রুত প্রকাশ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণের নির্দেশ দেন। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে এ কর্মসূচির নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিবন্ধনের তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিদের ভিসার আবেদন করার সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রশাসন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে কর্মসূচির সময়সূচি ও বাস্তবায়নে আবারও পরিবর্তন আসতে পারে।
১৯৯০ সালের মার্কিন অভিবাসন আইনের মাধ্যমে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি চালু হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, যেসব দেশ থেকে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে যান, সেসব দেশের নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর প্রায় ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ থাকে। তবে এ সংখ্যার মধ্যে নির্বাচিত মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ডিভি লটারিতে নির্বাচিত হলেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। এটি মূলত স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভিসার আবেদন করার সুযোগ। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রধান আবেদনকারীর অন্তত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্ম-অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এ কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বাধ্যতামূলক নয়। তবে অপরাধের ইতিহাস, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনসহ অন্যান্য অযোগ্যতার বিষয় ভিসা দেওয়ার সময় বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
আদালতের নির্দেশের পর ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশভিত্তিক যোগ্যতার তালিকা প্রকাশ না করায় বাংলাদেশ এবার আবেদন করতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ডিভি কর্মসূচিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গেলে সেই দেশের নাগরিকেরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদনের যোগ্যতা হারান। বাংলাদেশিরা সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে এ কর্মসূচিতে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটি ডিভি লটারি থেকে বাদ পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল
ডিভি কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার আরেকটি চিত্র সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসন তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে দপ্তরটি জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর তখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুতগতিতে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে।
তবে এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাঁদের মতে, ভিসা বাতিলের কিছু ঘটনায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাক্স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের উদ্বেগ, এ ধরনের নীতির কারণে জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের পরিচয়ের জন্য বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।
সব মিলিয়ে, মার্কিন আদালতের নির্দেশে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি আবার এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাংলাদেশিদের জন্য আবেদনের সুযোগ ফিরবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au