নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। রোববার সকালে সিংহ দরবারে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি লাইন চৌরের শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সেখানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন।
জেন–জি আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি সহায়তা দেওয়া এবং তাঁদের সরকারিভাবে শহীদ ঘোষণা। এ ছাড়া আহত ১৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও ৫৭ জন পুলিশ সদস্যের জন্য বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্দোলনে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সহিংসতায় ৭২ জন নিহত হয়েছেন—যাঁদের মধ্যে ৫৯ জন বিক্ষোভকারী, ১০ জন বন্দী ও ৩ জন পুলিশ সদস্য।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেলের সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নেপালের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একত্র হয়েছে। নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন–ইউএমএল ও মাওবাদী সেন্টারসহ আটটি দল শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করে, প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী। যদিও সংসদ ভেঙে দেওয়া ছিল আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের অন্যতম দাবি। আগামী বছরের ৫ মার্চ নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পৌডেল পরে এক বিবৃতিতে সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। তাঁর ভাষায়, “সংবিধান ও সংসদীয় ব্যবস্থা টিকে আছে, গণতন্ত্র এখনো অটুট রয়েছে।”
৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কারকি নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত কারকি ছাত্রনেতা ও তরুণ প্রজন্মের আস্থাও অর্জন করেছেন। তবে তাঁর সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—আইনশৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন, সংসদ ভবন ও সরকারি স্থাপনা পুনর্গঠন, তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সহিংসতার দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা।
কয়েক দিনের মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।