ইরানে আজকেই হামলার হুমকি ট্রাম্পের, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি
ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার তিনি বলেছেন, রোববারই ইরানে নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে। তবে…
মেলবোর্ন, ১৬ অক্টোবর- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রকৌশল অনুষদ ভবনের সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
রাত ১টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনকে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের অভিযোগ, সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পদে তাদের প্রার্থী জমাদিউল আওয়ালকে কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত দেখানো হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে জমাদিউল পেয়েছেন ১ হাজার ২০৩ ভোট, আর ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থী নেয়ামত উল্লাহ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৬ ভোট।
ছাত্রদলের এক কর্মী অভিযোগ করে বলেন, “প্রকৌশল অনুষদের ৩১২ নম্বর কক্ষে দর্শন ও সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছেন। অথচ ওই কক্ষে জমাদিউল মাত্র তিন ভোট পেয়েছেন। এটা কারচুপির ফল।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “ফলাফল ঘোষণা শেষে আমি বেরিয়ে আসছিলাম। তখন একদল শিক্ষার্থী এসে ৩১২ নম্বর কক্ষের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানায়। আমি তাদের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বললেও তারা তা মানেনি। এখন আমাকে ভবনের ভেতরে আটকে রেখেছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে।
এর আগে রাত সোয়া ১২টার দিকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ডিন কার্যালয়ে ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর হলে ভিপি পদে ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ২২৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবিরের ইব্রাহিম রনি পেয়েছেন ৯০ ভোট।
জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে ছাত্রদলের মো. শাফায়াত হোসেন পেয়েছেন ১৬৪ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবিরের সাঈদ বিন হাবিব পেয়েছেন ৮৩ ভোট।
তিনটি হলের ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে ঘোষিত শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে তিনি ৩৪ ভোট এবং রনি ২৭ ভোট পান। মাস্টার দা সূর্যসেন হলে সাজ্জাদ পান ১৪০ ভোট, রনি পান ১৩০ ভোট।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষবার চাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার ২৭ হাজার ৫১৬ শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে ছাত্রী ১১ হাজার ১৫৬ জন।
মোট ৯০৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী, আর ১৪টি হল ও ১টি হোস্টেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৯৩ জন প্রার্থী।
ভিপি পদে ২৪ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২২ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি হলে ১৪টি করে পদ রয়েছে, ফলে মোট পদসংখ্যা ২১০টি। ছাত্রীদের পাঁচটি আবাসিক হলে ৭০টি পদে লড়ছেন ১২৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ১৬টি পদে একক প্রার্থী থাকায় ৫৩টি পদে ভোট হচ্ছে।
চাকসু নির্বাচনে এবার মোট ১৩টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’, বামপন্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’, ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের যৌথ প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’, এবং ‘বিনির্মাণ শিক্ষার্থী ঐক্য’—এই প্যানেলগুলোর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au