গোলখরা কাটিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন আলভারেজ
দীর্ঘ আট মাসের গোলখরা কাটিয়ে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের জয়সূচক গোল করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। গোল করার পর সমর্থকদের কাছে আগের মন্তব্যের জন্য…
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলমান গণবিক্ষোভের শেষ দিনে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে। প্যারিস, মার্শেই, বোর্দো ও লিয়ঁসহ বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসির।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছিল সরকার।
দিনের বেশির ভাগ সময় বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও শেষভাগে কয়েকটি বড় শহরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। রাজধানী প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষ হওয়ার পর মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারী গাড়ির বিক্রয়কেন্দ্রের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্শেইতে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করেন এবং ময়লার ঝুড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। একইভাবে বোর্দো শহরেও রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। অন্যদিকে, লিয়ঁতে স্থানীয় প্রশাসনের নিষিদ্ধ করা এলাকায় জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুন্যেজ জানিয়েছেন, চলমান সংঘর্ষে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের একজন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তুলুজ শহরে এবং অন্যজন মধ্য ফ্রান্সের ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগের সপ্তাহেও দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। ওই বিক্ষোভে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটে।
এদিকে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে দায়ী করছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের নীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং জনঅসন্তোষ তীব্র হয়েছে।
ফরাসি সরকার স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মাধ্যমে বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমতি দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমেনি। ফ্রান্সের বাইরেও শনিবার আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানা, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস এবং ইতালির মিলান শহরে একই ধরনের জনবিক্ষোভ ও অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au