মেলবোর্ন, ২২ অক্টোবর- দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে প্যারিসের আদালত। এর মধ্যে তিন বছর কার্যকর কারাদণ্ড এবং বাকি দুই বছর স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ১ লাখ ইউরো জরিমানাও করা হয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, সারকোজি ২০০৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে অবৈধ তহবিল নিয়েছিলেন। এই অর্থ দিয়ে প্রচারণা চালানো হয়, যা ফরাসি নির্বাচনী আইন ও আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
২৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) আদালত এই রায় ঘোষণা করে। এরপর ২১ অক্টোবর তিনি প্যারিসের লা সান্তে কারাগারে গিয়ে সাজাভোগ শুরু করেন। নিরাপত্তা ও মর্যাদার কারণে তাঁকে বিশেষ ইউনিটে রাখা হয়েছে।
সারকোজির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। তবে আপিলের আবেদন গ্রহণের আগেই আদালত কারাদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।
নিকোলাস সারকোজি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো অবৈধ অর্থ গ্রহণ করেননি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মাথা উঁচু করে কারাগারে যাচ্ছি, কারণ আমি নির্দোষ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ফ্রান্সের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত যেখানে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান দুর্নীতির মামলায় সরাসরি কারাভোগ শুরু করেছেন। বিচারকরা মনে করেন, এই মামলার রায় ফ্রান্সে “আইনের শাসন ও স্বচ্ছতার শক্ত বার্তা” দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও সারকোজি বিচারকদের ঘুষ দেওয়ার মামলায় তিন বছরের সাজা পেয়েছিলেন। এবার লিবিয়ার তহবিলকাণ্ডে দণ্ড পাওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই রায়কে স্বাগত জানানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, “ক্ষমতার আসনে থাকা ব্যক্তিরাও আইনের ঊর্ধ্বে নন।”
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা