বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রায় ১০০ ডলার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- রাশিয়ার বড় দুই রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই তেলের দামে আগুন লেগেছে, মাত্র এক দিনে দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে চাপে ফেলতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ৩৯ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৯৮ ডলারে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৩১ ডলার, এখন তা ৬১ দশমিক ৮১ ডলার। এটি এক দিনের হিসাবেই বড় ধরনের বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় আঘাত আসবে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা দেশগুলো বিশেষ করে চীন ও ভারতের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে এসেছে। এখন নিষেধাজ্ঞার চাপে বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হতে পারে তারা। স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, চীন ও ভারতের শোধনাগারগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি রাশিয়ার তেল নিয়ে পশ্চিমা অর্থ ব্যবস্থার বাইরে থাকবে, নাকি নতুন সরবরাহকারীকে বেছে নেবে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার তালিকা বাড়াচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বের আরও দেশ ও জোট। ব্রিটেনও ইতোমধ্যে রসনেফট ও লুকঅয়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৯তম দফায় নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর তেলের দাম প্রথম ধাক্কা খায় ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মজুত তেল কমে যাওয়ায় দাম আরও উপরে ওঠে।
ইউবিএস ব্যাংকের জ্বালানি বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টানোভো মনে করেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে বাজারে কী পরিমাণ অস্থিরতা তৈরি হবে তা অনেকটা নির্ভর করবে ভারতের অবস্থানের ওপর। কারণ, ভারত বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। ভারতীয় শোধনাগারগুলো যদি রাশিয়া থেকে কেনা কমিয়ে দেয়, তবে নতুন জোগানদাতা খুঁজতে গিয়ে বাজারে চাপ বাড়বে। ইতোমধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, তারা রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কমাতে পারে।
তবে আরেকদল বিশ্লেষক বলছেন, বিগত সাড়ে তিন বছরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যত নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তার বেশির ভাগই দেশের তেল উৎপাদন বা রপ্তানি আয়কে বড় রকমেরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। রিস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক ক্লাউদিও গ্যালিমবার্তি বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়ে টিকে থাকার পথ তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে ওপেক প্লাস জোট যদি উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, তবে অতিরিক্ত সরবরাহ বাজারে চাপ সৃষ্টি করবে এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা থমকে যেতে পারে। ইউবিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে ব্রেন্ট তেলের দাম ৬০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেল, ডিজেল ও গ্যাসোলিনের মজুত কমেছে, যা চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং বাজারে মূল্য বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
সুত্রঃ রয়টার্স