চীনের ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- বাংলাদেশ চীনের তৈরি ২৪টি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত…
মেলবোর্ন, ২৬ অক্টোবর- এশিয়া সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অংশ নিচ্ছেন একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, আঞ্চলিক সম্মেলন ও বাণিজ্যিক চুক্তি আলোচনায়। সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এটি চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশলের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প তাঁর সফর শুরু করেছেন জাপানের টোকিও থেকে, যেখানে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশ রক্ষা সহযোগিতা, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। উভয় পক্ষ প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ গবেষণার জন্য একটি নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করে।
জাপানের পর ট্রাম্প যান দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় মূল গুরুত্ব পায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট। ট্রাম্প বলেন,
“আমরা চাই কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা হোক, তবে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।”
এ সময় দুই দেশ একটি যৌথ সামরিক মহড়ার চুক্তি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেয়, যা ২০২0 সালের পর থেকে স্থগিত ছিল।
এরপর ট্রাম্প যান ভারতের নয়াদিল্লিতে, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য ও প্রযুক্তি অংশীদারত্ব (US-India Strategic Trade Partnership) সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন।
বৈঠকে উভয় দেশ ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত সামরিক হেলিকপ্টার ও নৌ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করবে।
এছাড়া, দুই দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সাইবার সুরক্ষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যৌথ বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে।
ট্রাম্প তাঁর সফরের শেষ পর্যায়ে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দেন। সেখানে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জলবায়ু সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন,
“আমরা চাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল হোক মুক্ত, স্বাধীন ও সবার জন্য উন্মুক্ত। কোনো দেশ যেন আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট না করে।”
তিনি আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন, যা মার্কিন নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুরো সফরজুড়ে ট্রাম্প চীনের সম্প্রসারণবাদী নীতি ও দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“আমরা কোনো দেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভয় ও দমননীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে দেব না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সফর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে এশিয়া-কেন্দ্রিক কৌশলের পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au