বিদেশি নাগরিকদের জরুরি সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- বিদেশি নাগরিকদের উদ্দেশে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সুবিধার অপব্যবহার করলে ভিসা বাতিলসহ কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে…
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও কেঁপে উঠেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। শুক্রবার দেশটির উত্তর উপকূলে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্যোগে অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩ হাজার ৩৬০ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, শুক্রবারের ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলের মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে এ কম্পনে নতুন করে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী কারাকাস ও মারাকাই শহরে ভূমিকম্পটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
বুধবারের জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৭২ জন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হলে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধসে পড়া ভবন ও দুর্গম এলাকায় এখনো অনেক মানুষের সন্ধান মেলেনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হবে, যাতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
সরকারি উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। অনেকে নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক স্থানে সাধারণ মানুষ হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
ভূমিকম্পের পর সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সসহ কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এসব প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজখবর আদান-প্রদান এবং জরুরি তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষমাণ ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস জানান, তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং আরও পাঁচ স্বজন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ নিজেরাই উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন, কিন্তু বড় বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরানোর জন্য জরুরিভাবে ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, এখনো অনেক মানুষ জীবিত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা থাকতে পারেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au