বরখাস্ত হচ্ছেন আইজিপি আলী হোসেন, নতুন পুলিশ প্রধান হচ্ছেন কে?
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর তাঁর পদে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা…
মেলবোর্ন, ৬ ডিসেম্বর- বাগেরহাটের ফকিরহাটে কয়েকশ বছরের পুরোনো একটি জোড়া শিবমন্দির ঘিরে গুপ্তধনের গুজব ছড়িয়েছে অনেকদিন ধরেই। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাতের আঁধারে মন্দিরের সুড়ঙ্গে অবৈধ খনন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তেমন নজরদারি না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে। উদ্বিগ্ন স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়।
বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, চুন, সুরকি আর পোড়ামাটির তৈরি এই দুই মন্দির ভয়াবহ ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, ফাটলের ভেতরে গাছ জন্মেছে। পাশে বনজঙ্গলের আড়ালে থাকা আরেকটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে মাটির স্তুপ পড়ে আছে। এগুলোই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কেউ সাম্প্রতিক সময়ে সুড়ঙ্গের মাটি খুঁড়েছে।
পিলজংগ ইউনিয়ন পরিষদের পেছন দিকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থান এই জোড়া মন্দির। মূল্যবান দুইটি কষ্টিপাথরের মূর্তি প্রায় ২৫ বছর আগে চুরি হয়ে গেছে। তিন বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ ৪০ দিনের কর্মসূচির বরাদ্দ থেকে প্রবেশপথ পরিষ্কার করে এবং জঙ্গল কাটে। এরপর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভক্তদের আনাগোনা বাড়ে। কিন্তু কিছুটা দূরে থাকা অপর মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর বাইরে ছিল। সম্প্রতি রাতের বেলায় কেউ সেখানে খনন শুরু করেছে। ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু ঢিবির ওপর থাকা মন্দিরটির সুড়ঙ্গ থেকে প্রায় ২৫ ধাপ নিচ পর্যন্ত মাটি অপসারণ করা হয়েছে।
মন্দির কমিটির সদস্যরা বলেন, তাঁরা দিনের আলোতে গিয়ে দেখেন সুড়ঙ্গের ভেতর পড়ে আছে শাবল, ঝুড়ি, কোদাল, বালতি আর ত্রিশূল। স্পষ্ট বোঝা যায় খননকারীরা নিয়মিতই সেখানে কাজ করছিল।
মন্দির কমিটির উপদেষ্টা সাধন কুমার দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার দাস জানান, লোককথা অনুযায়ী পঞ্চদশ শতকে এখানে বহু ব্রাহ্মণ পরিবার বাস করত। এক সাধু ব্রাহ্মণের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সূত্রে ডাকাতদের ধর্মান্তরিত হওয়া এবং তাঁদের হাতেই শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা পাওয়ার কাহিনি স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত। তাঁদের মতে, মন্দিরের নিচে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, বহু কক্ষ আর পুরোনো আরাধনাকেন্দ্র ছিল। সেই সুড়ঙ্গেই নাকি স্বর্ণমুদ্রা, কষ্টিপাথর আর স্বর্ণালংকারসহ গুপ্তধন লুকানো আছে বলে ধারণা করা হয়।
এ অবৈধ খনন বন্ধ করতে, মন্দিরটি সংরক্ষণ করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না, তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বাগেরহাট কার্যালয়ের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানান, মন্দিরটি খুবই পুরোনো এবং তা সংরক্ষণ করা জরুরি। সুড়ঙ্গ খোঁড়ার বিষয়টি তিনিও জানতেন না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au