তিন বন্দুকধারী দেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণ
পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে কালাতের বর্তমান খানের ছেলে শাহজাদা মুহাম্মদ খান আহমেদজাইকে তাঁর তিন সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ অপহরণ করেছে একদল বন্দুকধারী। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে খুজদার…
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর তাঁর পদে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আলী হোসেন ফকিরকে বরখাস্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদটির জন্য বিসিএস ১৫তম ব্যাচের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁরা হলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক মো. আহসান হাবিব পলাশ এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
বর্তমান আইজিপি আলী হোসেন ফকিরও বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তবে নতুন আইজিপি নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সরকারপ্রধানের ওপর নির্ভর করছে। ফলে আলোচনায় থাকা চারজনের বাইরেও কারও নাম আসতে পারে।
এরই মধ্যে আলোচনায় থাকা চার কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যসংবলিত নথি তলব করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, অতীত কর্মকাণ্ড ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী মন্তব্যটিকে সরকারের জন্য ‘বিব্রতকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও আইজিপির বক্তব্যকে ‘ঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, ক্রসফায়ারের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না।’ তাঁর এ বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
একই অনুষ্ঠানে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেওয়া হয়, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়েও মন্তব্য করেন আইজিপি। তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকরা মাদকের টাকার ভাগ না পেলে লেখেন এবং পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে বলে প্রচার করেন। তাঁর এ বক্তব্যও সমালোচনার জন্ম দেয়।
সমালোচনার মুখে ওই রাতেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা শাস্তি বোঝানো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সাংবাদিকদের বিষয়ে দেওয়া মন্তব্যটিও অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
এদিকে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও বিবৃতি দিয়ে আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে এ বিতর্কের মধ্যেই পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের আলোচনা সামনে এসেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au