প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার গ্রেপ্তারের অভিযোগ শেখ হাসিনার
বাংলাদেশে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে…
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। তিন দশকের এই চুক্তি নবায়নের আগে পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর জীববৈচিত্র্য, পলি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় অভিন্ন নদীর পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর মধ্যে গঙ্গা দুই দেশের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীটি বিপুল জনগোষ্ঠীর পানীয় জলের চাহিদা পূরণ করে, লাখ লাখ একর কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে এবং অভ্যন্তরীণ মৎস্য আহরণ ও বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গঙ্গার পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে ১৯৯৬ সালে দুই দেশ ৩০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তি ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় এর কার্যকারিতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পানিবণ্টনব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে গেলে দুই দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কীভাবে পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।
ভারতের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কলকাতা শাখার এক আলোচনাপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে পানির ন্যায্য বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও নদীর সামগ্রিক পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়নি।
এর মধ্যে রয়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পলি প্রবাহ ও ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীকে শুধু পানির উৎস হিসেবে বিবেচনা না করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হিসেবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন ও নদীর পানিপ্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাব পড়ে কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। তাই ভবিষ্যতের চুক্তিতে পানির পরিমাণ ভাগ করে দেওয়ার পাশাপাশি নদীর পরিবেশগত স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, পানিপ্রবাহ-সংক্রান্ত তথ্যের যৌথ বিনিময় এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শুধু পানির হিস্যা নির্ধারণের পরিবর্তে নদীর সঙ্গে যুক্ত সামগ্রিক প্রাকৃতিক সম্পদকে যৌথভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দুই দেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গত দেড় বছরে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। বর্তমানে দুই দেশ সতর্ক কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পর্যায়ে রয়েছে। উভয় সরকারই পারস্পরিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে নতুন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় ভারত ও বাংলাদেশ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সহযোগিতা বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই প্রয়োজনীয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অভিন্ন নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বজায় রাখা জরুরি। এতে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সহযোগিতাও জোরদার হতে পারে।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছর পূর্তি এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ভারতের কলকাতায় একটি বিশেষজ্ঞ আলোচনা আয়োজন করেছে অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কলকাতা শাখা। আয়োজকদের সূচি অনুযায়ী, আলোচনা সরাসরি ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ভারত ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আলোচনায় ১৯৯৬ সালের চুক্তির তিন দশকের অভিজ্ঞতা, শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য প্রাপ্যতা, নদীর জীববৈচিত্র্য ও পলি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা কার্যকর রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন শুধু পানির হিস্যা নির্ধারণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা। আগামী ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশ কীভাবে পানির ন্যায্য বণ্টন ও নদীর পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে, তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au