এক ইনজেকশনেই নির্মূল হবে ক্যানসারের টিউমার
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর সর্বশেষ জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২৬টি ঘটনা ঘটেছে, যা আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।
রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা ছিল ৩১২টি। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩২৬টিতে পৌঁছেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে ধর্ষণের ঘটনায়। এপ্রিলে যেখানে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৫৪টি, মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮টিতে। অর্থাৎ এক মাসে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা এপ্রিলের ১৪টি থেকে বেড়ে মে মাসে ১৬টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা তিনগুণ বেড়ে ২টি থেকে ৬টিতে দাঁড়িয়েছে। যৌন হয়রানির ঘটনাও ১৭টি থেকে বেড়ে ১৮টিতে উন্নীত হয়েছে।
এমএসএফ বলছে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব পরিসংখ্যান দেশের নারী ও শিশুদের ক্রমবর্ধমান অনিরাপদ অবস্থার প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে নতুন উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে অনলাইন জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিস্তার। মে মাসে অনলাইন জুয়াকে কেন্দ্র করে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং এ-সংক্রান্ত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদকসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় চারজন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ১৫ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের দুটি ঘটনা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার তিনটি অভিযোগও নথিভুক্ত হয়েছে।
এমএসএফের নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ধরন দিন দিন আরও জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। প্রকাশ্য সহিংসতার কিছু ঘটনা কমলেও যৌন সহিংসতা, ডিজিটাল অপরাধ, অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং সামাজিক অবক্ষয়ের নানা সূচক আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও পারিবারিক পর্যায়ে মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au