এক ইনজেকশনেই নির্মূল হবে ক্যানসারের টিউমার
মেলবোর্ন, ১ জুন- ক্যানসার চিকিৎসায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে নতুন একটি পরীক্ষামূলক ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ‘অ্যামিভান্টাম্যাব’ নামের এই ওষুধ কিছু…
মেলবোর্ন, ৩১ মে- ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে প্রায় ৯৪ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় অভিযুক্ত নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াই শেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজের নির্দোষতার সেই রায় দেখে যেতে পারেননি তিনি। হাইকোর্টে চূড়ান্তভাবে খালাস পাওয়ার এক বছর আগেই মৃত্যুবরণ করেন পরেশ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯০ টাকা চুরি বা লুট হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরদিন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মামলা করলে নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই।
মামলার পাশাপাশি ২০১৩ সালে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থ উদ্ধারের জন্য ফরিদপুরের আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করে। তবে ২০১৬ সালে আদালত সেই মামলা খারিজ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা খরচাও আরোপ করেন। পরে সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট জনতা ব্যাংকের সেই আপিল খারিজ করে দেন। বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ রায়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু পরেশ চন্দ্র দাসকে দায়ী করে অন্য সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উপেক্ষা করা হয়েছে।
রায়ে আদালত আরও বলেন, ব্যাংকের ভল্টের চাবি যাদের কাছে ছিল কিংবা ঘটনার দিন যারা ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করা হয়নি। এতে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আদালতের মতে, শুধু একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে দায়ী করে আপিল করা বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের শামিল।
এ কারণে হাইকোর্ট শুধু আপিল খারিজই করেননি, পরেশের পরিবারকে হয়রানি ও ভোগান্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা এবং আগের ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে।
এদিকে চুরির অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় ২০২০ সালে পরেশকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। পরে আপিলে সেই সাজা কমিয়ে দুই বছর করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট সেই সাজা ও দোষী সাব্যস্তের রায় বাতিল করে তাকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেন।
তবে সেই রায়ের আগেই, ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন পরেশ চন্দ্র দাস। ফলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি একজন অভিযুক্ত হিসেবেই সমাজে পরিচিত ছিলেন।
পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে তাদের পরিবারকে চরম ভোগান্তি, আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীরা আজও আইনের আওতার বাইরে থাকলেও তার বাবা শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। কিন্তু সেই রায় নিজের চোখে দেখে যেতে না পারার বেদনা পরিবারের সদস্যদের আজও কষ্ট দেয়।
পরিবারের প্রত্যাশা, আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পর জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরেশ চন্দ্র দাসের চাকরি-পরবর্তী সব প্রাপ্য সুবিধা দ্রুত পরিবারের হাতে তুলে দেবে এবং দীর্ঘদিনের এই অন্যায়ের যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au