কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩
মেলবোর্ন, ১০ জুন- পাবনায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কিশোরীর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত…
মেলবোর্ন, ১০ জুন- বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মাদ্রাসা প্রায় দুই দশক পর আবার চালু হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের চরশী খলিফা পাড়ায় অবস্থিত চরশী হাবিরুন্নেসা হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি ২০০৫ সালের পর থেকে বন্ধ ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলার পর জেএমবি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয় এবং সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময়ের পর মাদ্রাসাটিও কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে এটি আবার চালু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন শায়খ আব্দুর রহমানের ভাই ওবায়দুর রহমান।
ওবায়দুর রহমান নিজেও জেএমবি সংশ্লিষ্টতার মামলায় দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, মাদ্রাসাটি কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করেনি, তাই কোনো অনুমতি ছাড়াই পুনরায় চালু করা হয়েছে।
মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন প্রধান শিক্ষক মো. জাকারিয়া হোসেন এবং সভাপতি হিসেবে আছেন টাঙ্গাইল জেলার একটি মাদ্রাসার ভাইস-প্রিন্সিপাল মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় একটি পুরনো মসজিদ এবং তিনটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, বাকি দুটি ভবনে পাঠদান কার্যক্রম চলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও নূরানী পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। মাসিক বেতন ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
সহকারী শিক্ষক মো. রাকিব জানান, স্থানীয় শিক্ষক ও কর্মীদের মাধ্যমে নিয়মিত পাঠদান চলছে। সহকারী পরিচালক মো. শাহজামাল বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১১ জন কর্মী রয়েছে, যাদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা।
প্রধান শিক্ষক মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, অতীতে এই মাদ্রাসা নিয়ে বিভিন্ন সময় নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর পরিবেশ ছিল বলে আলোচনা থাকলেও বর্তমানে তা নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং দরজা সবার জন্য খোলা।
মাদ্রাসার পরিচালক ওবায়দুর রহমানের স্ত্রী সাবিনা খাতুন বলেন, তাদের পারিবারিক সম্পত্তি ও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মাদ্রাসাকে ঘিরে অতীত ইতিহাস টেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
পরে নিজে কথা বলতে গিয়ে ওবায়দুর রহমান জানান, কোনো কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করেনি। তাই পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, স্থানীয়দের দান এবং কিছু সরকারি সহায়তার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি চলছে।
এদিকে মাদ্রাসাটির অতীত ও বর্তমান কার্যক্রম ঘিরে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর ইতিহাসের কারণে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au