বিশ্ব

তরুণদের এআই প্রশিক্ষণ থেকে ‘সপ্তধারা’, স্বাধীনতা দিবসে মোদির বড় ঘোষণা

  • 4:33 pm - August 15, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১২৬ বার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তরুণ প্রজন্মকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে সাত দফার ‘সপ্তধারা’ রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন তিনি। ভাষণে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি, উৎপাদন, কৃষি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মোদি। এ সময় তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা নকশাল মানসিকতার নতুন হুমকির কথা উল্লেখ করেন।

শনিবার লালকেল্লা থেকে দেওয়া প্রায় ৭৫ মিনিটের ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারতের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে তরুণরা। গত মাসে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্বের অভিযোগে জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভের পর তার এবারের ভাষণে তরুণদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোদি ঘোষণা দেন, এক কোটি তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করা হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণদের আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

লালকেল্লা থেকে মোদি বলেন, ‘তরুণরাই আমাদের বিকশিত ভারতের দিকে নিয়ে যাবে।’

ভারতের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ফলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জেন-জি ও তরুণ ভোটাররা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠী হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

‘সপ্তধারা’ রোডম্যাপ

‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত দফার একটি নতুন উন্নয়ন কাঠামো ঘোষণা করেছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সপ্তধারা’। প্রাচীন ভারতের ‘সপ্ত সিন্ধু’ বা সাত নদীর ধারণার সঙ্গে এই কাঠামোর তুলনা করেছেন তিনি।

‘সপ্তধারা’র প্রথম বিষয় হলো উৎপাদন শক্তি। ভারতকে পণ্য ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের একটি বিশ্বস্ত বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। বিভিন্ন উপাদান থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ প্রস্তুত পণ্য পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় বিষয় কৃষি ও খাদ্য। মিলেট, মসলা ও বিভিন্ন ফলসহ ভারতের নিজস্ব কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান খাদ্য উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন তিনি।

তৃতীয় বিষয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও রোবোটিকসের মতো ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মোদি। তার মতে, ভারত শুধু প্রযুক্তির বড় বাজার হয়ে থাকবে না, বরং বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতেও বড় ধরনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আগামী সাত থেকে আট বছরে ভারতে সাত থেকে আটটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা স্থাপনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থ বিষয় গতি শক্তি। দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মোদি। উচ্চগতির রেল ও আধুনিক মহাসড়কের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।

পঞ্চম বিষয় প্রতিরক্ষা শক্তি। প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। ড্রোন, হাইপারসনিক প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে ভারতকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যও তুলে ধরেন।

ষষ্ঠ বিষয় জ্বালানি নিরাপত্তা। আগামী এক দশকে পাঁচটি পারমাণবিক চুল্লি চালুর লক্ষ্য ঘোষণা করেন মোদি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করা।

সপ্তম ও শেষ বিষয় সফট পাওয়ার। যোগ, আয়ুর্বেদ এবং ভারতের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রভাব ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ বা ‘নকশাল মানসিকতা’ নামে একটি নতুন হুমকির কথা তুলে ধরেন।

মোদি বলেন, অস্ত্র হাতে নেওয়া নকশালদের অনেকাংশই নির্মূল করা হয়েছে। তবে তার দাবি, নকশাল মতাদর্শে বিশ্বাসী কিছু ‘দিমাগি নকশাল’ এখনও ক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে অবস্থান করছে। এসব আদর্শিক নকশালকে চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

এবারের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদির বক্তব্যে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা এবং দেশের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ‘বিকশিত দেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে এসব উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

এই শাখার আরও খবর

মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ঝরল ১০ প্রাণ, আহত আরও ২০

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোরের আলো ফোটার আগেই সড়কে ঝরল ১০ প্রাণ। যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন।…

‘আমি ভয় পাই না’, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা আবারও বললেন শেখ হাসিনা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা আবারও জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা হত্যার শিকার হতে পারেন বলে…

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানত না সরকার

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় তাঁদের বিচারপ্রক্রিয়া ও অভিযোগের বিস্তারিত জানতে পারেনি বাংলাদেশ সরকার। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের দূতাবাস বা…

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক পরিবার ঋণনির্ভর!

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: নিত্যদিনের খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না আয়। সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে তাই ধারদেনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশের বহু পরিবারকে।…

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার সংকট কেন কাটছে না?

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় আধিপত্যের লড়াই—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধের সমষ্টি হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা কঠিন। দীর্ঘদিনের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au