ইয়েমেনে নতুন সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত: জাতিসংঘ
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এক লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।…
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত একটি ছয়তলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
বুধবার রাতে গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে প্রতি তলায় চারটি করে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ধসের পর পাশের বাড়ি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুর ওপরও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, ধসে পড়া ভবনটি ভেঙে পড়া কংক্রিটের বিশাল স্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা সেখান থেকে নিহতদের মরদেহ বের করে আনছেন।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, আগের ইসরায়েলি হামলায় ভবনটির কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
বাসাল বলেন, প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় সীমিত সরঞ্জাম ও সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে উদ্ধারকাজ চালাতে হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল এবং ২০২৫ সালের মার্চে ভবনটিতে একাধিকবার হামলা হয়েছিল। এরপর বাসিন্দাদের সেখানে ফিরে না যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ও তাঁবুর সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাসাল বলেন, “তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তাঁবু বা নিরাপদ বাড়ি না থাকায় ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে বসবাস করছেন।”
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় গাজার বিপুলসংখ্যক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৭৩ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের অধীনে কাজ করে। জাতিসংঘ এসব পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক মানবিক সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ ভবন ধসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য ভয়াবহ ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, উপত্যকাটিতে প্রায় ২ হাজার ভবন রয়েছে যেগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় পুনর্গঠনের ধীরগতির জন্য ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়ী করেছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েল গাজায় অতিরিক্ত ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। দেশটির দাবি, এসব সরঞ্জাম সামরিক কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে।
সূত্র:এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au