ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইয়েমেনের পরিস্থিতি ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভান্স জানান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরবসহ পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। অঞ্চলটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর দখলে নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। পরদিন শুক্রবার তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় পেরিম দ্বীপও। লোহিত সাগরের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হুথিদের দখলে যাওয়ায় বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের পশ্চিমে আরব উপদ্বীপ এবং আফ্রিকার জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালী লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ব বাণিজ্যের পাশাপাশি জ্বালানি পরিবহনেও এই জলপথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল হুথিরা। এরপর সৌদি ও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটে।
গত ১০ দিনে হুথি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইয়েমেনের সরকারি সেনারা লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলও বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধিদের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা উদ্বেগের, জানতে চাইলে ভান্স বলেন, ‘‘সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব-সহ এ অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দেশগুলির সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিষয়টি আমেরিকা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।’’
সূত্র:আনন্দবাজার.কম