ভাইরাল রিলের আলোচিত বিউটি রানী এবার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গানের রিল ভিডিও প্রকাশের পর সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আলোচনায় আসা সিলেটের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল এবার জেলার শ্রেষ্ঠ…
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যে ওমানের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারতমুখী এমভি কেপ দাও নামের জাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত নাবিকের নাম সুরজ যাদব। তাঁর বয়স ২৬ বছর এবং তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানে থাকা ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ধার হওয়া ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ওমানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী এমভি কেপ দাও ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছে হামলার শিকার হয়। ওমানের রয়্যাল নেভি জানিয়েছে, জাহাজটি ওমানের মুসান্দাম গভর্নরেটের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়।
ভারতীয় নাবিকদের সংগঠন ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এফএসইউআই) জানিয়েছে, জাহাজটিতে দুটি টর্পেডো আঘাত করে। একটি জাহাজের বাম পাশের সি-ডেকের আবাসিক অংশে এবং অন্যটি ইঞ্জিন রুমের কাছের বাম পাশের হালে আঘাত করে। হামলার পর জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
এফএসইউআই জানিয়েছে, হামলার সময় সুরজ যাদব জাহাজটিতে ‘ওয়াইপার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। সংগঠনটি বলেছে, বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা এখন হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে জাহাজে মোট কতজন ভারতীয় নাবিক ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন এবং তাঁদের সবাইকে উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে এফএসইউআইয়ের হিসাবে, জাহাজটিতে মোট ২৮ জন ক্রু ছিলেন, যার মধ্যে ২০ জন ভারতীয়।
ওমানের রয়্যাল নেভি হামলার পর জাহাজের ২৭ জন ক্রুকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওমানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২৭ জনের মধ্যে ১৯ জন ভারতীয় ছিলেন।
হামলার পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ, নাবিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহত সুরজ যাদবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাঁর মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নাবিকদের সংগঠন এফএসইউআই হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকারী সাধারণ নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
তবে এমভি কেপ দাওতে হামলার জন্য কারা দায়ী, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হামলার ধরন নিয়ে এফএসইউআই টর্পেডোর কথা বললেও হামলাকারী বা হামলার পেছনের পক্ষ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনার কারণ ও দায়ী পক্ষ শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে নৌ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au