মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত…
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার নাদিম নাসির এক আনুষ্ঠানিক আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দেন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।
প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আওতায় পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগমকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি ঠেকাতে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র, হাতে তৈরি বিস্ফোরক, পেরেকযুক্ত বস্তু, ভারী লাঠি, গুলতি, বল-বিয়ারিং, পেট্রলবোমা এবং মানুষের শারীরিক ক্ষতি করতে পারে এমন কোনো সরঞ্জাম বহন বা প্রদর্শন করা যাবে না।
এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ কিংবা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের স্থাপিত ব্যারিকেড ভাঙা বা অপসারণের চেষ্টাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
রাওয়ালপিন্ডি জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার জেলা গোয়েন্দা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, প্রধান সড়ক এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে ডেপুটি কমিশনারকে সতর্ক করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন আশঙ্কা করছে, এসব হুমকি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শুধু রাওয়ালপিন্ডি নয়, পাকিস্তানের আরও কয়েকটি এলাকায় আগে থেকেই একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখী লং মার্চকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডিতে নতুন করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।
তবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিটিআইয়ের লং মার্চ এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমানা অতিক্রম করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও দলটির নেতারা ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনায় অটল রয়েছেন।
শনিবার খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর নেতৃত্বেই লং মার্চ রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে এগিয়ে যাবে। আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করাই এসব বিধিনিষেধ আরোপের প্রধান উদ্দেশ্য।
পিটিআইয়ের লং মার্চকে ঘিরে একদিকে আন্দোলনকারীদের রাজধানীমুখী অগ্রযাত্রার প্রস্তুতি, অন্যদিকে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। আগামী দিনগুলোতে লং মার্চের গতিপথ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থানের ওপর পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au