ইউনূস কি অবস্থা, তোমার কপালে হেনস্তা আরো লেখা আছে : মেঘনা আলম
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কপালে আরও হেনস্তা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আলোচিত মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ…
নিরাপত্তাঝুঁকি ও জীবননাশের আশঙ্কায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হচ্ছে না। আদালতের অনুমতি নিয়ে কারাগারে রেখেই ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মামলার কার্যক্রমে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে সশরীরে হাজির না করে কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়ে জিয়াউল আহসান ও তার পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, বিচারিক কার্যক্রম সচল রেখেই অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর জিয়াউল আহসানকে একক প্রিজন ভ্যানে করে আনা-নেওয়া নিরাপদ না হলে কারাগার থেকেই ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ। ওই শুনানিতে তার আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার একা আনা-নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে না এনে জিয়াউল আহসানকে আলাদা প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছিল।
নাজনীন নাহারের আশঙ্কা, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একা আনা-নেওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে পরিবহনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান ছিল, নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে তাকে কারাগারে রেখেই শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম শুনানিতে বলেন, ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে একদিকে নিরাপত্তাঝুঁকি কমানো সম্ভব, অন্যদিকে বিচারিক কার্যক্রমও চালিয়ে নেওয়া যায়।
রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রস্তাবে আপত্তি জানান নাজনীন নাহার। তার প্রশ্ন ছিল, অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা হলে নিরাপত্তার সমস্যা কোথায়? অর্থাৎ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভার্চুয়াল শুনানিই একমাত্র উপায় কি না, সে বিষয়ে আসামিপক্ষের ভিন্নমত ছিল। দুই পক্ষের বক্তব্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শুনানির একপর্যায়ে জিয়াউল আহসান নিজেও কথা বলার অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি পেয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে একা গাড়িতে আনার উদ্দেশ্য হলো কোনো ঘটনা ঘটিয়ে পরে তার ওপর দায় চাপানো।
এই পরিস্থিতিতে কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার নিরাপত্তা কেবল পরিবহন ব্যবস্থার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না। একজন অভিযুক্তের নিরাপত্তা, আদালতে উপস্থিতির সুযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা—তিনটি বিষয়ই সামনে এসেছে। তবে নিরাপত্তার যুক্তিতে সশরীরে হাজিরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশগ্রহণের সুযোগ কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর মামলায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি অভিযোগের বিচারও হতে হবে প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো পক্ষের আশঙ্কা থাকলে তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জিয়াউল আহসানের মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী, শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন তাঁর জেরা শুরু হওয়ার কথা। এই পর্যায়ে সাক্ষ্য ও জেরা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দির পর জেরা শেষ হলে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে আদালতের কার্যতালিকা, সাক্ষ্য-জেরা এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। ভার্চুয়াল শুনানির ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au