মশা নিধনে ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গুর লার্ভা নিধনে কেনা ওষুধের মান পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পায়নি খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। ফলে ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা দুই হাজার লিটার ওষুধের কার্যাদেশ বাতিল করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেসিসি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেসিসির চিঠি অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড (ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি) সরবরাহ করে। ১২ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত কমিটি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে কার্যকারিতা পরীক্ষা করে।
পরীক্ষায় দেখা যায়, ওষুধ প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর লার্ভার মৃত্যুর হার মাত্র ১২ শতাংশ। এ ফল সন্তোষজনক না হওয়ায় কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কার্যাদেশ বাতিল করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমান গাজী। তিনি বলেন, কার্যাদেশ বাতিলের চিঠি এখনো পাননি। তাঁর দাবি, কেসিসির পরীক্ষাপদ্ধতি সঠিক ছিল না। পুনরায় পরীক্ষার আবেদনও করেছিলেন তারা।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, লার্ভিসাইডের পাশাপাশি উড়ন্ত মশা নিধনে ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইডও কেনা হয়েছে। তবে লার্ভিসাইডের কার্যকারিতা পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়ায় নতুন ওষুধ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের পরিচালনা কমিটির সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে আপাতত এক হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনা এ ওষুধ আগামী সপ্তাহে সরবরাহের কথা রয়েছে।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, নতুন ওষুধের প্রতি লিটারের দাম পড়বে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। আগের ওষুধের তুলনায় দাম বেশি হলেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ওষুধেরও মান পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য সাইপারমেথ্রিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষাও চালিয়েছে কেসিসি। মশারি টানিয়ে মশা রেখে ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটিয়ে এ পরীক্ষা করা হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টা মশার ওপর ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই মাস বিভিন্ন কর্মসূচি চালানো হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হবে।