উন্নয়নশীল বিশ্বে কর্মসংস্থান সংকট, চাকরি পাবে না ৮০ কোটি তরুণ: ইউএনডিপি।ছবিঃ সংগৃহীত
আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রায় ১২০ কোটি তরুণের মধ্যে ৮০ কোটিই কর্মসংস্থান পাবে না বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, এখনই কার্যকর নীতিগত পরিবর্তন ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়বে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নিয়মিত মধ্যাহ্নকালীন সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এ উদ্বেগের কথা জানান ইউএনডিপির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভার সাইডলাইন থেকে তিনি এই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হন। এ সময় সংস্থাটির নতুন নীতিগত প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’-এর মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।
আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেক মানুষের গড় বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তরুণ জনগোষ্ঠীর এই বিশাল অংশের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এখনই নীতিগত পরিবর্তন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে তিনটি বড় চাপের কথা তুলে ধরেন ইউএনডিপি প্রধান। এগুলো হলো ঋণ পরিশোধের চাপ, তীব্র এল নিনোর প্রভাব এবং জ্বালানি সংকট। তাঁর উপস্থাপনায় বলা হয়, মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো বর্তমানে তাদের মোট রাজস্বের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় এই হার তিন গুণ এবং গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে আরও ১৩ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সংকট মোকাবিলায় ইউএনডিপি দুটি নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে। এগুলো হলো ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্সিলারেটর’ এবং ‘জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি’। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের অংশীদারত্বে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় এগুলোর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়েও কথা বলেন আলেকজান্ডার ডি ক্রু। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও সেবা, কৃষি ও পর্যটনের মতো শ্রমনির্ভর খাতগুলোতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এজন্য দেশগুলোকে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিমা খাতে বাড়তে থাকা ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ২০১৫ সালে এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৬৫ বিলিয়ন ডলার, অথচ এর বিপরীতে বিমা সুরক্ষা ছিল মাত্র ৫ বিলিয়ন ডলারের। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে আলেকজান্ডার ডি ক্রু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমন্বিত উদ্যোগ ও সংহতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য থেকে মানুষকে বের করে আনতে বিশ্বজুড়ে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।