চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গাড়িচাপায় নারী-শিশুসহ ৫ যাত্রী নিহত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের যাত্রীদের ওপর লরি উঠে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও একজন শিশু। এ ঘটনায় আহত…
ফুটবল মাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ব্যক্তিগত অর্জনে হতাশা নিয়ে ফিরেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। তবে মাঠের বাইরের এক বিতর্কে এবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের। চীনের প্রয়াত নেতা মাও সে তুংকে নিয়ে তাঁর কথিত মন্তব্য ঘিরে দেশটির একাধিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফরাসি টকশো ‘দ্য ব্রিজ’-এর একটি ভিডিও ক্লিপ থেকে। সেখানে এমবাপেকে একটি মিম নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, “যে মিমটি দেখে আমার সবচেয়ে বেশি হাসি পায়, সেটি এমন একটি ভিডিও, যেখানে একজন লোককে দেখা যায়। আমার মনে হয়, তিনি চীনের একজন স্বৈরশাসক।”
এমবাপের বক্তব্যের সময় পর্দায় এমন একটি মিম দেখা যায়, যেখানে মাও সে তুংয়ের মতো দেখতে এক ব্যক্তির ছবির ওপর এমবাপের মুখ বসানো ছিল। এরপর তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি বন্ধুদের সঙ্গে সব সময় এটি ব্যবহার করি।”
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ক্লিপে এমন বক্তব্য দেখা গেলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এমবাপে সরাসরি মাও সে তুংয়ের নামও উল্লেখ করেননি। এদিকে, মূল ভিডিওটি এখন ‘দ্য ব্রিজ’-এর ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ভিডিওটির রেকর্ড করা অংশ চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিতর্কটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে তাঁরা অবগত।
তিনি বলেন, “চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন কথা বা আচরণের বিরুদ্ধে চীনা সমাজের সব মহল থেকেই স্বাভাবিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে।”
এমবাপে কিংবা ‘দ্য ব্রিজ’ কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিতর্কের মধ্যেই এমবাপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে চীনের একাধিক ব্র্যান্ড। দেশটির বৃহত্তম দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেংনিউ জানিয়েছে, চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বক্তব্য বা আচরণের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন কথা বা আচরণের আমরা দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি। এ বিষয়ে আমাদের শূন্য-সহনশীলতার নীতি রয়েছে।”
পানীয় উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠান দংপেংও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন যেকোনো আচরণের বিরুদ্ধে তারা দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেয় এবং এ বিষয়ে তাদের শূন্য-সহনশীলতার নীতি রয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিবৃতিতে বিতর্কিত ভিডিওটির কথা সরাসরি উল্লেখ করেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, এমবাপে ঠিক কী বলেছিলেন বা করেছিলেন, যার কারণে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
চীনের ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘটনায় এমবাপের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দেশটির বাজারে তাঁর বাণিজ্যিক অবস্থান যে চাপে পড়েছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মাও সে তুং ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন এবং দেশটির কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থার প্রধান নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শাসনামলে ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির ফলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যাতে কয়েক কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’-এর সময় দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক নিপীড়ন, সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। মাওয়ের শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধী ও কমিউনিস্ট আদর্শের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালানো হয়।
১৯৭৬ সালে মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর চীনের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
মাওকে ঘিরে ঐতিহাসিক বিতর্ক এবং চীনা জনগণের জাতীয় অনুভূতির বিষয়টি সামনে আসায় এমবাপের কথিত মন্তব্য এখন কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি তাঁর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au