চীনে এমবাপেকে ঘিরে বিতর্ক, স্পনসর হারানোর শঙ্কা
ফুটবল মাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ব্যক্তিগত অর্জনে হতাশা নিয়ে ফিরেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। তবে মাঠের বাইরের এক বিতর্কে এবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে…
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে নেতাদের টেলিভিশন বিতর্কে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। ওয়ান নেশন পার্টির নেতাকে বিতর্কে রাখার প্রশ্নে মতবিরোধের জেরে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি ব্যক্তিগত আক্রমণ।
ভিক্টোরিয়ায় আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচন রাজ্যটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পলিন হ্যানসনের নেতৃত্বাধীন ওয়ান নেশন পার্টির উত্থান ঘিরে নির্বাচনী বিতর্কে দলটির রাজ্য নেতা ওয়ারেন পিকারিংকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
লেবার পার্টি জানিয়েছে, রাজ্যের প্রিমিয়ার বেন ক্যারল বিরোধী দল লিবারেল পার্টির নেতা জেস উইলসন এবং ওয়ান নেশনের নেতা ওয়ারেন পিকারিং, দুজনের সঙ্গেই বিতর্কে অংশ নিতে প্রস্তুত।
তবে রাজ্য নির্বাচনের আগে নিউজ২৪ ও হেরাল্ড সানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত তিন নেতার বিতর্কে অংশ নিতে রাজি হয়নি লিবারেল পার্টি। দলটির নেতা উইলসন কেবল বেন ক্যারলের সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কে অংশ নেওয়ার সম্মতি দিয়েছেন।
এ নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে লেবার পার্টি ও ওয়ান নেশন, উভয় পক্ষই উইলসনের অবস্থানের সমালোচনা করেছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেন জেস উইলসন। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনের পর ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন মাত্র দুজন।
উইলসন বলেন, “এই নির্বাচনে ভোটারদের সামনে স্পষ্ট দুটি বিকল্প রয়েছে। হয় বেন ক্যারলের নেতৃত্বে ক্লান্তিকর, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ লেবার সরকারকে আরও চার বছর ক্ষমতায় রাখতে হবে, নয়তো আমার ও আমার দলের নেতৃত্বে নতুন দিকনির্দেশনা এবং নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যেকোনো দিন বেন ক্যারলের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে প্রস্তুত। বিতর্কে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বেন ক্যারলই।”
নিউজ২৪-এর সাংবাদিক জর্জি ডিকারসনের প্রশ্নের জবাবে উইলসন বলেন, বিতর্কে ওয়ান নেশনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি মানলে গ্রিনস পার্টিকেও একই সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি এখনই স্পষ্ট করে দিতে চাই, কোনো সমঝোতা হয়নি এবং হবেও না। তবে এই নির্বাচনে অনেক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।”
গ্রিনস পার্টির উদাহরণ টেনে উইলসন বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টে দলটির সাতজন এমপি রয়েছেন। জনমত জরিপের ইঙ্গিত, নির্বাচনের পর তাদের আসনসংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গ্রিনস নেতা এলেন স্যান্ডেলও বিতর্কে অংশ নেওয়ার দাবি করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। উইলসনের ভাষ্য, গ্রিনসের সমর্থন ছাড়া লেবার পার্টির পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে না।
তবে তাঁর মতে, নির্বাচনের পর প্রিমিয়ার হওয়ার বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বী কেবল বেন ক্যারল ও তিনি নিজে।
ওয়ান নেশনকে বিতর্কে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উইলসনের আপত্তির সমালোচনা আগেই করেছিলেন প্রিমিয়ার বেন ক্যারল। এ নিয়ে উইলসনকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করেছে ভিক্টোরিয়া লেবার পার্টি। বিজ্ঞাপনটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, উইলসন কি বিতর্কে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন?
তবে মঙ্গলবার পাল্টা আক্রমণ করেন লিবারেল পার্টির ডেপুটি আপার হাউস নেতা ইভান মুলহল্যান্ড। তাঁর দাবি, আসলে জেস উইলসনের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন বেন ক্যারল। আর সেই কারণেই তিনি ওয়ারেন পিকারিংকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।
মুলহল্যান্ড বলেন, “আমার মনে হয়, বিষয়টি স্পষ্ট। বেন ক্যারল জেস উইলসনের সঙ্গে বিতর্কে ভয় পাচ্ছেন এবং তাঁকে সুরক্ষা দিতে ওয়ারেন পিকারিংকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চান।”
তিনি আরও বলেন, “সত্যি বলতে, তিনি একজন ভীতু মানুষ। জেস উইলসনের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে তিনি পিছিয়ে যাচ্ছেন, কারণ তিনি জানেন, জেস উইলসন বিতর্কে তাঁকে পুরোপুরি ধরাশায়ী করবেন।”

ভিক্টোরিয়ার লিবারেল পার্টির নেতা ইভান মুলহল্যান্ড বলেছেন, রাজ্যের প্রিমিয়ার বেন ক্যারল ‘ভীতুর মতো আচরণ করছেন’ এবং ওয়ান নেশনের ওয়ারেন পিকারিংকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আড়াল নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ছবি: নিউজ২৪।
লিবারেল নেতার অবস্থানের সমালোচনা করেছে ওয়ান নেশনও। দলটির অভিযোগ, জেস উইলসনের মধ্যে এখনো ‘আত্মতুষ্ট ও জন্মগতভাবে শাসন করার অধিকার রয়েছে’ এমন মনোভাব কাজ করছে।
ভিক্টোরিয়া ওয়ান নেশনের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “জেস উইলসনের মতো লিবারেল নেতাদের মধ্যে সেই আত্মতুষ্ট ও জন্মগত শাসকসুলভ মনোভাব এখনো বিদ্যমান।”
পোস্টে আরও বলা হয়, অধিকাংশ ভিক্টোরিয়াবাসী যে নেতৃত্বের বিতর্ক দেখতে চান, উইলসন তাতে বাধা দিয়ে তাঁদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন।
দলটির বক্তব্য, একজন আত্মবিশ্বাসী প্রিমিয়ার যেকোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবেন। কিন্তু উইলসন ওয়ারেন পিকারিংয়ের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে চলছেন।
ওয়ান নেশনের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জেস উইলসন বলেন, তিনি তুচ্ছ ব্যক্তিগত আক্রমণে আগ্রহী নন।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, ভিক্টোরিয়ার মানুষ চান তাঁদের নেতারা সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলুন, একে অপরের সঙ্গে নয়। কে কার সঙ্গে বিতর্ক করবে, তা নিয়ে বিতর্ক করা আসলে রাজনীতির অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা সাধারণ মানুষের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
উইলসন জানান, তিনি প্রতিদিনই রাজ্যের মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন এবং নতুনভাবে রাজ্য পরিচালনার পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অপরাধ কমানো, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস করা এবং এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা, যা সত্যিকার অর্থে ভিক্টোরিয়ার মানুষের জন্য কাজ করবে।
তিনি বলেন, “এই রাজ্যের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিদিনই আমি এ কাজ করে যাব।”
নির্বাচনের আগে নেতাদের বিতর্কে ওয়ান নেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধ এখনো কাটেনি। ফলে ভিক্টোরিয়ার ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের নেতৃত্বের বিতর্ক দেখতে পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: নিউজ২৪
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au