বরখাস্ত হচ্ছেন আইজিপি আলী হোসেন, নতুন পুলিশ প্রধান হচ্ছেন কে?
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর তাঁর পদে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা…
‘ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থি’ বলে উল্লেখ করে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। এর ফলে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার থেকে দেশটির বহু মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের এ ধরনের অস্ত্রোপচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ।
চিকিৎসকদের মতে, আফগানিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ব্যাপক। বিশেষ করে বিস্ফোরণ, বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে এ অস্ত্রোপচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নতুন নির্দেশের কারণে চিকিৎসাসেবার এ সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
কাবুলের নূর আই হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম জানান, তালেবানের নির্দেশে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁদের হাসপাতালে ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের অধিকাংশই তরুণ, যাঁরা আঘাত, বিস্ফোরণ কিংবা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
নূর জামান হাশিম বলেন, কয়েক দশকের সংঘাতে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেশটিতে নেই। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রতিস্থাপনের উপযোগী কর্নিয়াও সহজে পাওয়া যায় না।
তিনি আরও জানান, তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে তাঁদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা, সংক্ষেপে অ্যাপনা, ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের জন্য বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। অঙ্গদানের মাধ্যমে সংগৃহীত এসব কর্নিয়া দৃষ্টিশক্তি হারানো রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সংস্থাটি আফগানিস্তানেও তাদের কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে। এ কার্যক্রমের আওতায় দেশটিতে ১৫০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার পরিচালনার জন্য আফগানিস্তানের তিনজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে পাকিস্তানের পেশোয়ারে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল।
অ্যাপনার কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাফফার মির ফাউন্ডেশনের প্রধান চিকিৎসক ফাওয়াদ জাফফার বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তাঁদের সংস্থা পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
তিনি জানান, প্রায় চার মাস আগে আফগানিস্তানেও কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল। সেখানে শত শত মানুষের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তালেবান সরকারের নির্দেশের কারণে কার্যক্রমটি গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান সরকার স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিকদের বিভিন্ন অধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের সিদ্ধান্তকে সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন বহাল থাকলে দৃষ্টিশক্তি হারানো অনেক রোগীর চিকিৎসা বিলম্বিত হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দুর্গম এলাকার রোগীদের জন্য বিকল্প চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশের বিষয়ে তালেবান সরকারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞাটি কত দিন কার্যকর থাকবে কিংবা ভবিষ্যতে এ চিকিৎসা আবার চালু হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সুত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au