শেষ ১০ মিনিটে ৩ গোল, নাটকীয় ম্যাচে হার এড়াল মেসিরা
ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে হলো তিনটি গোল। শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়াল লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। বৃহস্পতিবার এফসি সিনসিনাতির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে দলটি।…
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : মা ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা রক্ষা ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশের নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ ২৯ অক্টোবর মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরই নদীতে মাছ শিকারে নামবেন হাজার হাজার নিবন্ধিত জেলে। এ জন্য জাল ও নৌকা মেরামতসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সারতে মাছঘাটগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।
লক্ষ্মীপুর মৎস্য বিভাগ ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের জেলেদের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস মেঘনা নদী। মা ইলিশ সংরক্ষণ ও জাটকা রক্ষায় গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।
লক্ষ্মীপুরের মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ২০ দিনে ২২৯টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ৭৭ জনকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে নিয়মিত ১০০টি মামলা করা হয়। এ ছাড়া সাড়ে চার টন ইলিশ, ২০টি নৌকা ও ৩৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইলিশ পরে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
গত ৮ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্য বিভাগের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কমিটি রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে অভিযান চালায়। এ বছর লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতও নিষিদ্ধ ছিল।
নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের সহায়তায় ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেক জেলের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ কেজি করে চাল। তবে বরাদ্দের চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কিছু জেলে।
মতিরহাট মাছঘাটের জেলে সফিক উল্যা ও মানা মাঝি বাসসকে বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে তাঁরা নদীতে মাছ ধরতে যাননি। গত বছরের তুলনায় এবার অভিযান বেশি কঠোর ছিল। প্রশাসনের তৎপরতার কারণে জেলেরা নদীতে নামতে সাহস করেননি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তাঁরা এখন জাল ও নৌকা মেরামত করে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবার তাঁরা ভিজিএফের চালও ঠিকমতো পেয়েছেন বলে জানান।
মজুচৌধুরীরহাট ঘাটের জেলে আবুল কালাম ও তোফায়েল আহমদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও নদীতে মাছ ধরা শুরু হবে। তাই তাঁরা নৌকা ও জাল প্রস্তুত করছেন। মাছ শিকার শুরু হলে পরিবারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় মেটাতে সুবিধা হবে বলে আশা তাঁদের।
একই ঘাটের আড়তদার মিন্টু বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে আড়তের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে এবং মাছঘাটগুলো আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।
মজুচৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আবদুর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দিনরাত নদীতে অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন বাধার মুখেও অভিযান অব্যাহত ছিল। নৌ-পুলিশ, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান সফল হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গত দুই বছর মাছের উৎপাদন কম থাকলেও এবার উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবার জেলায় মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ২ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au