পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে আলোচনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যে পুলিশের শীর্ষ পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আইজিপির অপসারণের দাবি ওঠার পর নতুন আইজিপি নিয়োগ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পাঁচ কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আইজিপি পদে নিয়োগের জন্য তিন কর্মকর্তার নাম প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিও প্রস্তুত রয়েছে। তবে বর্তমান আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তবেই নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়।
নতুন আইজিপি হিসেবে আলোচনায় থাকা কর্মকর্তারা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ।
এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিতর্কের কারণে তাঁদের নাম চূড়ান্ত বিবেচনা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে দাবি করেছে একটি সূত্র।
সরকারের বক্তব্য কী
আইজিপির মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্যটির ব্যাখ্যা সামনে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, আইজিপি তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং বক্তব্যটি ভুলভাবে যোগাযোগ হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা না করার পক্ষে মত দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন বলেও জানান উপদেষ্টা।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইজিপি অসাবধানতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন।
যে বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক
গত ২৬ অক্টোবর পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ারে যেতে দ্বিধাবোধ করবে না।’
একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে তাদের ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে ‘দুর্বল’ বলা হয়। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহল, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইজিপিকে অপসারণের দাবিও ওঠে।
বিতর্কের মুখে ওই দিন রাতেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারবহির্ভূত শাস্তি বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে তিনি শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন।
তবে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও আইজিপির পদে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা থামেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।