আতঙ্কে রাতে আত্মীয়দের বাড়িতে থাকছেন মানিক পশারীর মেয়ে ও বোন
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরাসরি কারও কাছ থেকে হুমকি না পেলেও…
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। গত ২২ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। এমন ফলাফলের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে।
শনিবার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্বীকার করেন, এবারের ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি। তবে খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের বক্তব্য, এবার খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে শতভাগ নির্মোহভাবে। আগের বছরগুলোতে পাসের হার ও জিপিএ–৫ বাড়ানোর যে কৃত্রিম প্রবণতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তবে সরকারের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন শিক্ষাবিদদের অনেকে। তাঁদের মতে, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতিসহ একাধিক বিষয় এবারের ফল বিপর্যয়ের পেছনে কাজ করতে পারে।
পাসের হার কমার কারণ নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ–৫ কিছুটা কমেছে। তবে এর পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ঘাটতি দায়ী নয়। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই এবং শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা দুর্বলতাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আগের সরকারের সময়ে কৃত্রিমভাবে জিপিএ–৫ ও পাসের হার বাড়ানোর একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানও খাতা মূল্যায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট রাখতে খাতায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার যে প্রবণতা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এবার পরীক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, শিক্ষার্থীরা যে নম্বর পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের যেন সেই নম্বরই দেওয়া হয়।
তবে শুধু খাতা মূল্যায়নের পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে ফলাফল এতটা খারাপ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সারা বছর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকা কিংবা পাঠদান পদ্ধতিতে ত্রুটি থাকার মতো বিষয়ও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষা বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানান, এবারের খাতা মূল্যায়নের নম্বরপত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কিছু অস্বাভাবিক চিত্র পাওয়া গেছে। এ কারণে ইতোমধ্যে ১০০ জনের বেশি পরীক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া নম্বরের পার্থক্য কতটা অস্বাভাবিক হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। তবে চিহ্নিত পরীক্ষকদের পরিচয় কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ইংরেজি ও আইসিটিতে সবচেয়ে বেশি ফেল
বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। ইংরেজিতে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। আর আইসিটিতে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন।
ইংরেজি ও আইসিটিতে এত বেশি শিক্ষার্থীর ফেল করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ফেল করার প্রবণতা আগে থেকেই বেশি। অন্যদিকে আইসিটি বিষয়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক নেই। অনেক ক্ষেত্রে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে আইসিটি পড়ানো হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আইসিটির পাঠ্যসূচি যথাযথভাবে অনুধাবন করতে না পারাও ফল খারাপ হওয়ার কারণ হতে পারে।
তবে শিক্ষাবোর্ডের এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি আরও কিছু কাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশে দক্ষ ইংরেজি শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা ইংরেজি পড়ান। একই সমস্যা রয়েছে আইসিটি বিষয়েও। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় মানের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আইসিটি বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করার পেছনে প্রযুক্তিগত বৈষম্যকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন এই শিক্ষাবিদ। তাঁর মতে, রাজধানীর বাইরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাব নেই। আবার গ্রামাঞ্চলের নিম্ন আয়ের পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কম্পিউটার বা প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইস নেই। ফলে হাতে–কলমে শেখার সুযোগ না থাকায় বিষয়টিতে তাদের দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে।
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান ২৯৩টি
এবারের ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক চিত্রও উদ্বেগজনক। দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। অন্যদিকে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানে।
শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদানের সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, রাজধানী ঢাকার বাইরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। কেউ কেউ নিয়মিত ক্লাস না করেই শুধু ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নেন। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাসের সম্ভাবনাও তুলনামূলক কম থাকে।
তবে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে শুধু অনুপস্থিতি বা পাঠদানের দুর্বলতাকে দায়ী না করে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বোর্ডভিত্তিক ফলে ঢাকার সঙ্গে ব্যবধান
১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাস করেছেন ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ পরীক্ষার্থী। জিপিএ–৫ পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭১৪ জন।
ঢাকার পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ–৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন।
অন্য বোর্ডগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সিলেটে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে পাস করেছেন ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী। জিপিএ–৫ পেয়েছেন মাত্র ৯৫০ জন। যশোর ও বরিশালসহ কয়েকটি বোর্ডে পাসের হার ৪৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।
২২ বছরের ফলাফলে সর্বনিম্ন পাসের হার
সাম্প্রতিক দুই দশকের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৪ সালের পর এবারই পাসের হার সবচেয়ে কম। ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সে বছর জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৩৬ জন শিক্ষার্থী।
এরপর ২০০৫ সালে পাসের হার বেড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ হয়। ২০০৬ সালে তা দাঁড়ায় ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশে। ২০০৭ সালে কিছুটা কমে ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ হলেও ২০০৮ সালে পাসের হার বেড়ে ৭৫ শতাংশে পৌঁছায়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই বছর এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১০ সালে ৭৪ শতাংশ, ২০১১ সালে ৭৫ দশমিক ০৮ শতাংশ, ২০১২ সালে ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন।
পরবর্তী বছরগুলোতে পাসের হারে ওঠানামা দেখা যায়। ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে পৌঁছায়।
২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কোনো লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই বছর আগের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়ায়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার আরও কমে যায়। ওই বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। চলতি বছর তা নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে।
অর্থাৎ গত দুই বছরে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তবে ফলাফলের এই পরিবর্তনের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, প্রশ্নপত্রের ধরন, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও পাঠদানের মানের প্রভাব কতটা, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসেম্বরেই পরীক্ষা
এবারের ফলাফলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি সুযোগ চালু করেছে সরকার। সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা আগামী ডিসেম্বরেই আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। আগে কোনো বিষয়ে ফেল করলে সাধারণত পরের বছর সেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। শিক্ষা বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, যেসব শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে ফেল করেছেন, তাঁরা এ সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাঁদের পরবর্তী বছরের পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি জানান, পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এক বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং দুই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নিবন্ধন ফি আলাদা হবে। তবে ফি কত নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ফল পুনর্মূল্যায়নের জন্যও আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা রয়েছে।
ফল বিপর্যয় থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সামগ্রিক পর্যালোচনা
এবারের এইচএসসি ফলাফল নিয়ে সরকারের বক্তব্য, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও প্রকৃত মেধার প্রতিফলন নিশ্চিত করায় পাসের হার কমেছে। তবে শিক্ষাবিদদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত উপস্থিতি, দুর্বল পাঠদান, প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাব এবং শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতিও ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
ইংরেজি ও আইসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে শতভাগ ফেল করা ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতিও শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন, সমস্যাটি কোনো একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ফলে এবারের ফলাফলকে শুধু খাতা মূল্যায়নের পরিবর্তনের ফল হিসেবে দেখার পরিবর্তে শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক দুর্বলতা চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর পর্যালোচনায় এসব সমস্যার প্রকৃত কারণ কতটা উঠে আসে এবং সেগুলো সমাধানে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতের পরীক্ষার ফলাফল ও শিক্ষার মানোন্নয়ন।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au