আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাও
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আবারও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেছে একটি সংগঠন। শনিবার ‘বঙ্গসেনা’ নামের সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে…
ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো ওই চিঠিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুদ্ধের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই ইরান তার সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে পাঠানো একটি চিঠি পর্যালোচনা করেছে ইরান। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু করা এবং আরও বিস্তৃত সমঝোতার পথ তৈরি করতে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ ইতিবাচক পদক্ষেপ।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য যদি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে সেটি হবে ওয়াশিংটনের আগের ভুলগুলোর মতো আরেকটি ভুল।
আরাগচির বক্তব্যে স্পষ্ট, আলোচনার প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছে না তেহরান। তাঁর মতে, কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে ইরানকে।
যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব আসার পরও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত।’
ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশটির অস্ত্রশস্ত্র আধুনিকায়ন করা হয়েছে, আগের দুর্বলতাগুলো সংশোধন করা হয়েছে এবং নতুন অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে রয়েছে।
আরাগচির এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ইরান সামরিক প্রস্তুতি কমানোর বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
নিষেধাজ্ঞার চাপেও আত্মসমর্পণ নয়
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন আরাগচি। তবে এ পরিস্থিতিতে তেহরান নতি স্বীকার করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমরা অবিচল থাকতে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। নিজেদের সক্ষমতার মাধ্যমে আমরা এই কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুললেও দেশটির নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন আসবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আলোচনার উদ্যোগ, নাকি নতুন কৌশল?
যুক্তরাষ্ট্রের চিঠিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও আলোচনার উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের সন্দেহ রয়ে গেছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা, অন্যদিকে নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কা, এই দুই বাস্তবতা সামনে রেখেই নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করতে চাইছে তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের চিঠিতে ঠিক কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সম্ভাব্য আলোচনার সময় ও স্থান কোথায় হতে পারে কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে আরাগচির বক্তব্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ মুহূর্তে আলোচনার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা জানালেও ইরানের অবস্থান হলো, কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই চিঠি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তব সমঝোতার পথ তৈরি করে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au