লক্ষ্মীপূজার তাৎপর্য: সমৃদ্ধির সাধনা, প্রজ্ঞার আলো ও মানবতার জয়
বাঙালি হিন্দু সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকজ ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবনের অন্যতম প্রধান পবিত্র অনুষঙ্গ দেবী শ্রীশ্রী লক্ষ্মীর আরাধনা। ধন-ধান্য, শান্তি-সম্পদ, সৌভাগ্য ও মঙ্গলময় জীবনের আকুল…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- সিলেটের অন্যতম পর্যটন স্পট ‘সাদা পাথর’ এখন প্রায় বিরাণভূমি। এলাকাজুড়ে আর কোথাও পাথরের দেখা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদা পাথরের বর্তমান পরিস্থিতির ছবি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, সেই সমালোচনা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে অব্যাহত রয়েছে পাথর সরানোর মহোৎসব।
একাধিক ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সিলেট–কোম্পানীগঞ্জ সড়ক দিয়ে পাথর বোঝাই শত শত ট্রাক ছুটে যাচ্ছে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ধোপাখোলা বাজার থেকে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটারজুড়ে বসানো হয়েছে অসংখ্য ক্রাশার মেশিন। এসব ক্রাশারে দিনভর ভোলাগঞ্জ থেকে আনা পাথর চূর্ণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানিকৃত পাথরও এখানে জড়ো করে গুঁড়া করা হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এসব আমদানিকৃত পাথরের সঙ্গে ভোলাগঞ্জ থেকে লুট করা সাদা পাথর মিশিয়ে একত্রে চালান তৈরি করা হয়। পরে তা ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, সাদা পাথর লুটের ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় নাম উল্লেখ করা হয়েছে ১৯১ জন আসামির, অজ্ঞাতনামা আরও ৩১০ জন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭০ জনকে এবং পরিচালিত হয়েছে শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার ভাষায়, “সাদা পাথর লুটে আমাদের জিরো টলারেন্স। একটি পাথরও যেন লুট না হয়—সেজন্য গত চার দিন ধরে টানা অভিযান চালানো হচ্ছে।”
মূলহোতাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে লুটে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফয়জুলসহ কয়েকজন মূলহোতাকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার এ বিষয়ে বলেন, “প্রশাসনকে আমি ব্যর্থ বলব না, কারণ ব্যর্থতা তখনই হতো যখন চেষ্টা করত। আসলে তারা কখনো চেষ্টাই করেনি। প্রশাসনের উদাসীনতাই সাদা পাথরের জন্য কাল হয়েছে। এক বছর আগেও সাদা পাথরে হাত দেওয়ার সাহস কেউ পেত না।”
এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, “সাদা পাথর রক্ষায় আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু কোনোভাবেই পাথর লুট বন্ধ হচ্ছে না।” কেন আগে রক্ষা করা সম্ভব হলেও এখন পারছেন না—এমন প্রশ্নে তিনি একই উত্তর পুনর্ব্যক্ত করেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au