‘চিন্তা কমাতেও চিন্তা করতে হয়’, মৃত্যুদণ্ডের আগে নজরুলের সেই আক্ষেপ
পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ নজরুল ইসলাম মাহিন। কিন্তু পরিবারের দুশ্চিন্তা দূর করার স্বপ্ন নিয়ে…
মেলবোর্ন, ১০ সেপ্টেম্বর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও ফলাফল ঘোষণার আগ মুহূর্তে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। ফলে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে থমথমে পরিস্থিতি।
সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থীরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগ ঘিরে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযোগ উঠেছে, ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বাইরে জড়ো হতে শুরু করেন জামায়াত-শিবির ও বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যার পর নীলক্ষেত এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের দুটি গ্রুপকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। শাহবাগ মোড়েও তাদের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অস্বাভাবিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম রাতে সাংবাদিকদের জানান, ফলাফলকে কেন্দ্র করে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, “সন্ধ্যার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চলছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
এর আগে দুপুরে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘চরম ব্যর্থতার’ অভিযোগ তোলেন। মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সকাল থেকে আমরা ভোটকেন্দ্রগুলোতে ঘুরেছি। যখনই কোনো কেন্দ্রে গিয়েছি, আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। আমি নিজেও প্রার্থী হয়েও ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারিনি। নিয়ম থাকা সত্ত্বেও আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় প্রার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এতে সময় নষ্ট হয়েছে।”
অন্যদিকে সন্ধ্যায় সিনেট ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদেক কায়েম প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে হার-জিতের কিছু নেই। আমরা সবাই জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধা ছিলাম। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনকে বিদায় করেছি। এবার শিক্ষার্থীরা যাকে বেছে নেবে, তাকেই মেনে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট মেনে নিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব এবং অন্যদেরও তাই করার আহ্বান জানাই। যদি আমরা নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাই, তবে সেটি উল্টো ফল বয়ে আনবে।”
ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষায় ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে এখনো বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, আর শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছেন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফলাফলের জন্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au