মেসি নেই, আলভারেজ-লাউতারোকে নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। দলটির অধিনায়ক ও মহাতারকা…
মেলবোর্ন, ২০ অক্টোবর- ইসরায়েলি কারাগারে আট মাস বন্দী থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণ মাহমুদ আবু ফউল। তবে মুক্তি পেলেও তিনি আর দেখতে পান না ইসরায়েলি কারারক্ষীদের নির্যাতনে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। গাজার উত্তরাঞ্চলের এই তরুণকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কামাল আদওয়ান হাসপাতাল থেকে আটক করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
মাহমুদকে রাখা হয়েছিল ইসরায়েলের কুখ্যাত সদে তেইমান কারাগারে, যা বন্দীদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত। সাক্ষাৎকারে মাহমুদ বলেন, তাঁকে দিনের পর দিন মারধর, অপমান ও অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। একদিন মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর থেকে তাঁর দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে আসে, পরে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যান।
বারবার চিকিৎসার আবেদন জানালেও কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়নি। তাঁকে শুধু একটি অকার্যকর চোখের ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। “আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল, ব্যথা করছিল, কিন্তু কেউ পরোয়া করেনি,” বলেন মাহমুদ।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁদের অনেকের শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। মাহমুদ মুক্তির পর গাজার নাসের হাসপাতালে ভর্তি হন, সেখানেই তিনি মায়ের কণ্ঠ শুনে কেঁদে ওঠেন। “আমি তাঁকে দেখতে পারছিলাম না, কিন্তু তাঁর গলা শুনে যেন পুরো পৃথিবী ফিরে পেয়েছিলাম,” বলেন তিনি।
বর্তমানে মাহমুদ গাজার ধ্বংসস্তূপের পাশে একটি তাঁবুতে বসবাস করছেন। চিকিৎসার অভাবে তাঁর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার মাধ্যমে বিদেশে চিকিৎসার আবেদন জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে বন্দীদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (PCHR) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বন্দী থাকা অন্তত ১০০ সাবেক ফিলিস্তিনি বন্দীর সাক্ষ্যে নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ জানান, “এই বন্দীদের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাঁদের অনেকে প্রতিরোধ করায় ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।” জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দী ইসরায়েলি কারাগারে মারা গেছেন।
গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েল ফেরত দেওয়া অন্তত ১০০ মরদেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে কিছু মরদেহে এমন প্রমাণও মিলেছে, যা “ফাঁসিতে ঝোলানোর” ইঙ্গিত দেয়।
ইসরায়েলের মানবাধিকার সংগঠন বেইতসালেম গত বছর দেশটির কারাগার ব্যবস্থাকে “নির্যাতন শিবিরের জাল” হিসেবে বর্ণনা করে। তারা জানায়, কারাগারগুলোয় বন্দীদের পর্যাপ্ত খাবার, পানি বা চিকিৎসা দেওয়া হয় না এবং অনেক সময় যৌন নিপীড়নেরও শিকার হতে হয়।
অন্যদিকে পাবলিক কমিটি এগেইনস্ট টর্চার ইন ইসরায়েল (PCATI) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে বন্দী নির্যাতনের শতাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও মাত্র দুটি মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে কোনো কারাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
ইসরায়েলের ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা রুচামা মার্টন বলেন, “নির্যাতন এখন যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কেউ আর এটি অস্বীকার করে না, কিন্তু প্রতিরোধও করে না।”
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, যিনি দেশটির কারাগার ব্যবস্থার তদারকি করেন, ফিলিস্তিনি বন্দীদের প্রতি কঠোর আচরণের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন, যাদের অনেকেই বিচার ছাড়াই আটক আছেন।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য বারবার সতর্ক করেছে। তবুও নির্যাতনের এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, মাহমুদের মতো অসংখ্য বন্দী এখন ইসরায়েলি কারাগারগুলোর নৃশংসতার জীবন্ত সাক্ষ্য। তাঁদের মুক্তি পেলেও শারীরিক ও মানসিক ক্ষত হয়তো কখনোই সেরে উঠবে না।
সুত্রঃ আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au