মেলবোর্ন, ২২ অক্টোবর- পেরুর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি ২১ অক্টোবর ২০২৫, মঙ্গলবার রাজধানী লিমা ও পার্শ্ববর্তী কলাও প্রদেশে ৩০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এই পদক্ষেপটি দেশজুড়ে বেড়ে চলা সহিংসতা ও অপরাধ দমনে নেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সেনাবাহিনীকে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে রাস্তায় টহল দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, জনসমাবেশ ও চলাচলের স্বাধীনতা সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে।
গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, পেরুতে ১,৬৯০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই পরিস্থিতির মধ্যে গত সপ্তাহে লিমায় অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হন।
হোসে জেরি ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রেসিডেন্ট ডিনা বোলুয়ার্তেকে অভিশংসন করে ক্ষমতায় আসেন। তিনি তার প্রশাসনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন, যা অপরাধ দমনে একটি আক্রমণাত্মক কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কথায় নয়, কাজে জয়ী হতে হয়,” এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।
তবে, সমালোচকরা পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়ে নেওয়া জরুরি অবস্থার পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তেমন সফল হয়নি। তাদের মতে, শুধুমাত্র জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে অপরাধের প্রকৃত কারণগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতি পেরুর রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে জনগণের নিরাপত্তা ও সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র : রয়টার্স