মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কানাডার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ করে দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে তিনি কানাডার অন্টারিও প্রদেশের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনকে দায়ী করেছেন, যা তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে।
অন্টারিও সরকার ১৯৮৭ সালের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের একটি ভাষণ সম্পাদনা করে একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করে, যাতে রেগানের শুল্ক নীতির সমালোচনা করা হয়। এই বিজ্ঞাপনটি ৭৫,০০০ ডলার ব্যয়ে তৈরি করা হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হয়। ট্রাম্প এই বিজ্ঞাপনটিকে ‘ভুয়া’ ও ‘প্রতারণামূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চলমান শুল্ক সংক্রান্ত মামলার ওপর প্রভাব ফেলতে চেয়েছে। রোনাল্ড রেগান প্রেসিডেন্টিয়াল ফাউন্ডেশনও এই বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করেছে, কারণ তারা দাবি করেছে যে, অন্টারিও সরকার রেগানের ভাষণ সম্পাদনা করে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ লিখেছেন, “এই বিজ্ঞাপনটি শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। শুল্ক আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের এই অশোভন আচরণের কারণে, আমি কানাডার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ ঘোষণা করছি।”
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই সিদ্ধান্তের পর বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমাদের পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চাই, তবে আমরা আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষায়ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা আমাদের বাজারে অন্যায্য প্রবেশাধিকার অনুমোদন করব না।
এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা ফ্রি ট্রেড চুক্তি (USMCA) ও অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।